জ্ঞান ও সভ্যতা: ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যার সভ্যতাগত জ্ঞানতত্ত্ব

জ্ঞান ও সভ্যতা: ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যার সভ্যতাগত জ্ঞানতত্ত্ব

আধুনিক সভ্যতার জ্ঞানরীতি ভিন্ন একটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বিকশিত হয়েছে। এখানে প্রকৃতিকে অনেক ক্ষেত্রে রিসোর্স বা সম্পদ হিসেবে পাঠ করা হয়। এই পাঠের মধ্যেই একটি বিশেষ সম্পর্ক নিহিত রয়েছে।

সম্পদ এমন একটি ধারণা, যার মূল্য নির্ধারিত হয় তার ব্যবহারিক সক্ষমতা দ্বারা।

ফলে বন প্রথমে কাঠের সম্ভাবনা। নদী প্রথমে জলবিদ্যুৎ বা সেচের সম্ভাবনা। প্রাণী প্রথমে উৎপাদনব্যবস্থার অংশ। এমনকি মানুষও অনেক সময় শ্রমশক্তি, ভোক্তা কিংবা মানবসম্পদে পরিণত হয়। এই ভাষা প্রকৃতিকে তার নিজস্ব মর্যাদা থেকে জুদা করে উপযোগের কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করে।

ফিতরাতি বাস্তুবিদ্যা এই আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গির বৈজ্ঞানিক অর্জনকে এনকার করে না। প্রকৃতির নিয়ম আবিষ্কার, প্রযুক্তির উন্নয়ন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি কিংবা পরিবেশগত গবেষণা মানবজাতির গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।

কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন একটি পদ্ধতিগত সাফল্য অস্তিত্বগত দর্শনে পরিণত হয়। অর্থাৎ মানুষ যখন ধরে নেয় যে প্রকৃতির মূল্য শুধু তার ব্যবহারিক উপযোগেই সীমাবদ্ধ। তখন জ্ঞান ধীরে ধীরে মুনাফার ভাষায় কথা বলতে শুরু করে, আর নৈতিকতা অর্থনৈতিক হিসাবের বান্দি হয়ে যায়।

এই অবস্থায় সভ্যতা দক্ষ হতে পারে, কিন্তু প্রাজ্ঞ হতে পারে না।

এই দুই জ্ঞানদৃষ্টির পার্থক্য শুধু পরিভাষার ফারাক নয়; এটি মানুষের আত্মপরিচয়ের পার্থক্য। যদি প্রকৃতিকে শুধু সম্পদ হিসেবে দেখা হয়, তবে মানুষ নিজেকে মালিক হিসেবে ভাবতে পারে।

যদি প্রকৃতিকে আয়াত হিসেবে পাঠ করা হয়, তবে মানুষ নিজেকে পাঠক ও আমানতদার হিসেবে উপলব্ধি করে। যদি প্রকৃতি বাজারের উপকরণ হয়, তবে সম্পর্কের ভিত্তি হবে ভোগ। যদি প্রকৃতি আমানত হয়, তবে সম্পর্কের ভিত্তি হবে দায়িত্ব।