‘সরকার টাকা ছাপাচ্ছে’ এমন প্রচারকে ‘গালগল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করা।
আজ শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর এফডিসিতে ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক্-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
ড. তিতুমীর বলেন, গত সময়ে পরিবার, ব্যবসা ও সরকার- সব ক্ষেত্রেই আয়সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাবে অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।
তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার বারবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমান সরকার কোনো খাতকে ‘সিন্ডিকেটের হাতে’ ছেড়ে দিতে চায় না। বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করতে চায়।
অবকাঠামো উন্নয়নের নামে অতীতে বিপুল ঋণ নেওয়া ও অর্থ লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, তথ্য বিকৃত করে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো–এর তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে।
তিনি বলেন, নতুন বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন না বাড়ে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতার বিষয়ও তুলে ধরেন তিনি।
প্রাক্-বাজেট ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়–কে হারিয়ে বিজয়ী হয় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার)। পরে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।






