
যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র উন্নয়নে বরাদ্দকৃত কোটি কোটি ডলার ডানপন্থি বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন।
এসব কর্মসূচির মধ্যে সাউথ আফ্রিকায় আফ্রিকানদের অধিকার, ‘পশ্চিমা সভ্যতার মূল্যবোধ’ সুরক্ষা এবং ইউরোপে ব্যাপক অভিবাসনের কারণে গণতান্ত্রিক অধিকার পিছিয়ে যাওয়ার অভিযোগ নথিভুক্ত করার বিষয় রয়েছে।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত এক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ১৭৭ মিলিয়ন ডলারের ‘ডেমোক্রেসি ফান্ড’ থেকে এসব কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। অর্থবছরের শেষ দিন বুধবারের মধ্যে অর্থ ব্যয় না হলে তা বাতিল হয়ে যাওয়ার কথা ছিল।
সূত্রের দাবি, সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্যের আপত্তি ও অর্থ আটকে রাখার উদ্যোগের মধ্যেই প্রস্তাবিত অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। তিনি মোট ২২ মিলিয়ন ডলারের ১০টি প্রস্তাবিত অনুদানের ওপর আপত্তি জানিয়েছিলেন।
সাধারণত ডেমোক্রেসি ফান্ডের অর্থ কর্তৃত্ববাদী দেশ অথবা সীমিত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দেশগুলোতে মানবাধিকার রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কর্মসূচিতে ব্যয় করা হয়। তবে এবার ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের মতো প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত অনুদানের মধ্যে ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নাইজেরিয়ার কর্মসূচিও রয়েছে। ব্রাজিলে বিচার বিভাগের কথিত অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ মোকাবিলায় একটি কর্মসূচির জন্য অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আফ্রিকানারদের অধিকার নিয়ে কাজ করার কথাও রয়েছে।
ইউরোপের জন্য প্রস্তাবিত একটি অনুদানের পরিমাণ ৫ মিলিয়ন ডলার। এর মাধ্যমে গবেষণা, জনপরিসরে বিতর্ক এবং নীতি সংস্কারের মধ্য দিয়ে ইউরোপে একটি ‘সভ্যতাভিত্তিক জোট’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর লক্ষ্য হিসেবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও অভিবাসন নীতির সমালোচনা করেছেন। একই সময়ে প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইউরোপের ডানপন্থি রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এসব অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছেন বলে দাবি করেছে সূত্রটি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মন্তব্যের জন্য পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসন ‘পশ্চিমা সভ্যতা’ রক্ষা, সেন্সরশিপের বিরোধিতা এবং ব্যাপক অভিবাসনের যুগের অবসানের পক্ষে অবস্থান করছে।
তবে সিনেটর অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস মানবাধিকার রক্ষাকারী ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার কর্মসূচির জন্য দ্বিদলীয় সমর্থনে ডেমোক্রেসি ফান্ডের অর্থ অনুমোদন করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ডানপন্থি সংগঠন ও কর্মসূচিতে করদাতাদের অর্থ ব্যয় করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে স্টেট ডিপার্টমেন্টের ডেমোক্রেসি, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড লেবার ব্যুরোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। মানবাধিকার প্রতিবেদনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অভিবাসন, বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি এবং গর্ভপাতের ওষুধে সরকারি অর্থায়নের মতো বিষয়গুলোকে নতুনভাবে মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…




