বাংলাদেশের নারী অভিযাত্রী তৈরির অন্যতম ব্যতিক্রমধর্মী মেন্টরশিপ উদ্যোগ ‘ট্রেক উইথ নিশাত’-এর পঞ্চম আসরের সমাপনী অনুষ্ঠান ও মেন্টি ঘোষণা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে পর্বতারোহণ ক্লাব অভিযাত্রী (অভিযাত্রী – দ্য এক্সপ্লোরার) আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘ট্রেক উইথ নিশাত ২০২৬’-এর নির্বাচিত মেন্টির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।
এ বছরের কঠোর ও বহুধাপের নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে তারমিম রহমান ‘ট্রেক উইথ নিশাত ২০২৬’-এর মেন্টি হিসেবে নির্বাচিত হন। আগামী এক বছর তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদারের সরাসরি মেন্টরশিপে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। মেন্টরশিপ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তিনি নিশাত মজুমদারের সঙ্গে নেপাল হিমালয়ের একটি ট্রেকিং অভিযানে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে ‘ট্রেক উইথ নিশাত ২০২৬’ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং পর্বতারোহণে নারীদের অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিশিষ্ট পর্বতারোহী ও এনডিউরেন্স স্পোর্টস পার্সোনালিটি গণ মতবিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল দেশের স্বনামধন্য জুয়েলারি ব্র্যান্ড আমিশি এবং অভিযাত্রী-এর মধ্যে একটি অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমিশি আগামী দিনে ‘ট্রেক উইথ নিশাত’ উদ্যোগের অন্যতম সহযোগী হিসেবে নারীদের অ্যাডভেঞ্চার, ট্রেকিং ও পর্বতারোহণে অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করতে পাশে থাকবে।
ট্রেক উইথ নিশাত
বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী নিশাত মজুমদারের স্বপ্ন থেকে ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করে ‘ট্রেক উইথ নিশাত’। পর্বতারোহণ ক্লাব অভিযাত্রী-এর আয়োজনে পরিচালিত এই উদ্যোগের লক্ষ্য দেশের ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার, ট্রেকিং ও পর্বতারোহণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা এবং ভবিষ্যৎ নারী অভিযাত্রী তৈরি করা।
এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; বরং আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্ব, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা এবং দলগত চেতনা বিকাশের একটি দীর্ঘমেয়াদি মেন্টরশিপ কর্মসূচি।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য
অভিযাত্রী বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পর্বতারোহণ এখনো ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং হওয়ায় অনেক তরুণী এই অঙ্গনে এগিয়ে আসার সুযোগ পান না। ‘ট্রেক উইথ নিশাত’ সেই ব্যবধান কমিয়ে নারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে কাজ করছে।
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল একজন বিজয়ী নির্বাচন নয়; বরং এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা সাহস, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের শক্তিতে নিজেদের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারবে।






