দেশের সৃজনশীল শিল্পকে অর্থনীতির মূলধারায় যুক্ত করে এ খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চায় সরকার। বাজেট নথির বরাত দিয়ে ফাইবারটু ফ্যাশনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৃজনশীল শিল্পের জিডিপিতে অবদান ১ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি এ খাতে ৫ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, তরুণ, শিল্পী, কারুশিল্পী, কনটেন্ট নির্মাতা ও সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল পরিচিতি আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সৃজনশীল শিল্পের টেকসই বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বয় জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সময়সীমা নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সৃজনশীল পণ্য প্রদর্শন ও বাজারজাত করতে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সৃজনশীল হাব স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পূর্বাচলে ১৬০ একর জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে বিশ্বমানের একটি কেন্দ্রীয় সৃজনশীল হাব স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।
এ ছাড়া কারওয়ান বাজারের অব্যবহৃত জায়গা, তেজগাঁওয়ে জরিপ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের পাশের জমি এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের খালি শিল্প প্লটে সৃজনশীল হাব স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উদ্ভাবন হাব স্থাপনের পাশাপাশি ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ উদ্যোগের আওতায় সৃজনশীল অর্থনীতিনির্ভর বিভিন্ন পণ্য চিহ্নিত ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁতপণ্য, মৃৎশিল্প, বয়নপণ্য, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না ও পোড়ামাটির পণ্য।
সৃজনশীল পণ্যের মান ও নকশা উন্নয়নে দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজাইনারদের নিয়ে জাতীয় ডিজাইনার পুল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও ফ্যাশন ডিজাইনারদের সহযোগিতায় বিসিকের নকশা কেন্দ্রকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সৃজনশীল পণ্যের প্রচার বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশীয় কনটেন্ট নির্মাতা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদেশি বাজারে প্রবেশে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উৎসব ও বাজারে বাংলাদেশের সৃজনশীল সক্ষমতা তুলে ধরতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নামে একটি জাতীয় ব্র্যান্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সৃজনশীল শিল্প দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য বড় পরিসরে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং দেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও কারুশিল্পকে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
