তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে যা করতে হবে

তালেবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে যা করতে হবে

গত মাসে জাতিসংঘ তালেবানকে সতর্ক করেছিল, তাদের ‘সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা লাখ লাখ আফগানকে (যাঁদের বেশির ভাগই নারী) জরুরি সহায়তা পাওয়াকে আরও বাধাগ্রস্ত করবে।’ এতেই বোঝা যাচ্ছে, আফগানিস্তানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জাতিসংঘ কতটা পিছিয়ে আছে।

দোহার বৈঠকেও আশ্চর্যজনকভাবে সবাই একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। বৈঠকের পরে গুতেরেস বলেছেন, ‘আফগান জনগণকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতিসংঘ তার আহ্বায়ক ক্ষমতা ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।’

আগামী কয়েক মাসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পথ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে একটি কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কারণ, তালেবান শাসনকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি আপাতদৃষ্টে আলোচনার টেবিলের বাইরে থাকলেও তালেবানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাজ করার একটি বিকল্প খোলা রাখা হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তালেবানকে মানবাধিকারবিষয়ক বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়ার বিনিময়ে তাদের বহুপক্ষীয় আলোচনায় অংশ নিতে দেওয়ার এবং কিছু সহায়তা তহবিল পাওয়ার লোভ দেখাতে পারে।

তালেবানের জন্য এ প্রস্তাবে রাজি হওয়ার সুবিধা হলো, এতে তাদের শাসন একধরনের বৈধতার রূপ পাবে এবং তালেবানকে এটি দেখানোর সুযোগ দেবে যে তারা দেশটির মানবিক সংকট সমাধানে আগ্রহী ও সক্ষম। তবে এ ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে। তালেবান কর্তৃপক্ষের হাতে মানবিক সহায়তার ত্রাণ তুলে দিলে তা সত্যিকারের গরিব মানুষের হাতে না পড়ে দুর্নীতির মাধ্যমে ভুল লোকের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।