জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত, কাতারের সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং শীত সামনে রেখে ইউরোপের বাড়তি চাহিদা এলএনজির দাম বাড়িয়েছে। গত ছয় মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত জানুয়ারিতে এশিয়ার স্পট বাজারে প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ছিল ১০–১১ মার্কিন ডলার। গত এপ্রিলের শেষ দিকে দাম ছিল ১৪–১৫ ডলার। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তা বেড়ে প্রায় ২২ ডলারে পৌঁছায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচন করা তিনটি এলএনজি কার্গোর অনুমোদন দেয়নি সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। ওই তিনটির দাম ছিল ২০ থেকে সাড়ে ২১ ডলারের মধ্যে। আরও কম দামে কেনার নামে বেশ কিছু কার্গো সরাসরি কেনার ক্রয়াদেশ অনুমোদন করা হয়। এসব কার্গোর চারটি আগস্টে আসার কথা ছিল, যার একটিও আসেনি। এতে দেশে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ঘাটতি পূরণে এখন উচ্চ দামে এলএনজি কিনতে হচ্ছে।
এলএনজি আমদানির সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ১ ডলার বাড়লে সরকারের অতিরিক্ত খরচ হয় ৪১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এখন ৪ ডলার বাড়তি দামেও এলএনজি কিনতে হয়েছে। তার মানে এক কার্গো এলএনজি কিনতে সরকারের বাড়তি খরচ হয়েছে অন্তত ১৬৫ কোটি টাকা।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, আগের চেয়ে সরবরাহ বেড়েছে। এলএনজি যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তার মাধ্যমে সরবরাহ ধরে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এর বাইরে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির অধীন এলএনজি কার্গো আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


