দেশের ইতিহাসে বৃহৎ শিক্ষা বাজেট ঘোষণা, জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ | চ্যানেল আই অনলাইন

দেশের ইতিহাসে বৃহৎ শিক্ষা বাজেট ঘোষণা, জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ | চ্যানেল আই অনলাইন

দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ বিনিয়োগকে দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আগামী অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন, যা দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষা খাতে ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।

সরকার বলছে, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই এই বিনিয়োগের মূল উদ্দেশ্য।

নতুন বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে পূরণের পরিকল্পনা রয়েছে।

মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার নতুন ঋণ কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এর আওতায় শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তে ঋণ পাবেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার জন্য দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন জরুরি। বিদেশে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়েন এই বাধা দূর করতেই এ উদ্যোগ।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় বিদেশি ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীরা ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন।  ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মান ভাষা শেখার বিশেষ কোর্স চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে কম রাখা হবে এবং পড়াশোনা শেষে চাকরিতে প্রবেশের পর তা পরিশোধের সুযোগ থাকবে। কোনো ধরনের প্রশাসনিক হয়রানি ছাড়াই এই সুবিধা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছে সরকার।

বিদেশে শিক্ষার্থীদের পাঠানোকে সরকার “ব্রেইন ড্রেন” নয় বরং “ব্রেইন সার্কুলেশন” হিসেবে দেখছে, যা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স ও দক্ষ জনশক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। প্রস্তাবিত বাজেটে ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা এসেছে। স্কুল–কলেজে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি হাই-স্পিড ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।

এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা উপকরণ ও অনলাইন কোর্সে অংশ নেওয়ার সুযোগ।