
তেল আবিব, ০৪ নভেম্বর – যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল এবং ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির রাজনীতিতে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে কোনো জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা এখন পুরোপুরি ভেস্তে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।
বিরোধী দল ‘ইয়েশ আতিদ’ পার্টির প্রধান ইয়ার লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (তৎকালীন টুইটার) দেওয়া এক কড়া বার্তায় স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নেতানিয়াহুর অধীনে ঐক্য সরকার গঠনের আর কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, নেতানিয়াহুকে প্রধানমন্ত্রী পদে টিকিয়ে রাখার মতো কোনো বিলাসিতা বা সামর্থ্য বর্তমান ইসরায়েলের নেই।
ইসরায়েলের সামনে বহুমুখী হুমকি:
ইয়ার লাপিদ তার বক্তব্যে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বকে সরাসরি দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় টিকে থাকলে নিচের বিষয়গুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে:
জাতীয় নিরাপত্তা: দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।
গণতন্ত্রের পতন: ইসরায়েলের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও মূল্যবোধ বিপন্ন হবে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান: বৈশ্বিক অঙ্গনে ইসরায়েলের সম্মান ও কূটনৈতিক অবস্থান পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া:
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান এবং রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির পরিবর্তন ইসরায়েলের রাজনীতির ওপর একটি বড় প্রভাব ফেলেছে। এই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাওয়া লাগতেই নেতানিয়াহুর বিরোধীরা আরও বেশি সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ইয়ার লাপিদের এই আক্রমণাত্মক ও স্পষ্টভাষী মন্তব্য ইসরায়েলি রাজনীতিতে নেতানিয়াহু বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করতে এবং আগামী দিনে রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
এনএন/ ০৪ নভেম্বর ২০২৬



