পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অনড় মমতা, কী হতে পারে পরবর্তী ধাপ? | চ্যানেল আই অনলাইন

পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অনড় মমতা, কী হতে পারে পরবর্তী ধাপ? | চ্যানেল আই অনলাইন

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর রাজ্য রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলাফল প্রকাশের পরই দলীয় প্রধান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। তার দাবি, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হয়নি এবং ফলাফলকে তিনি জনগণের প্রকৃত রায় হিসেবে মানতে নারাজ।

আজ ৬ মে বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিজেপির বিজয় নিশ্চিতের পর এক সংবাদ সম্মেলনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি পরাজিত হননি এবং রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। তার এই অবস্থানকে ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

নির্বাচন প্রক্রিয়া ও অভিযোগ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছিল। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বিরুদ্ধে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ তোলেন। একইসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমার পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন বলেও দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

পদত্যাগ না করলে কী হবে?

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা রাজ্যপালের হাতে থাকলেও তা বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর নির্ভরশীল। সংবিধানের ১৬৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপাল কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং আস্থা হারালে সরকার টিকে থাকতে পারে না।

যদি নির্বাচনের পর মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করেন, তবে সাধারণত রাজ্যপাল নতুন সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণে আস্থা ভোট অনুষ্ঠিত হয় বা সরকার গঠন সম্ভব না হলে রাষ্ট্রপতি শাসনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, পদত্যাগ না করার এমন পরিস্থিতি অত্যন্ত বিরল, তাই এ নিয়ে স্পষ্ট নজির খুব কম।

বিধানসভার মেয়াদ

সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ নির্ধারিত সময় শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হয়। বর্তমান মেয়াদ শেষ হলে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই পরিস্থিতিতে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলেও মেয়াদ শেষ হলে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ হারাতে পারেন।

বরখাস্ত করার বিষয়ে ইঙ্গিত

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্তব্য করেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি পদত্যাগ না করেন, তবে তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। অন্যদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে বিকল্প সরকার গঠনের উদ্যোগ নিতে পারে অথবা সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের পথ খুঁজতে পারে।

মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, শপথ গ্রহণ ও পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এখন মূল প্রশ্ন তিনি কি শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলাবেন, নাকি ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রে নতুন নজির তৈরি হবে।