নাটক থেকে ‘পারিবারিক মেলবন্ধনের গল্প উধাও’ এমন অভিযোগ প্রায়ই শোনা যেত! এই ধারণাকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করল চ্যানেল আই-তে প্রচারিত পারিবারিক আবেগ ইমোশনের সিরিয়াল ‘এটা আমাদেরই গল্প’; এটি নির্মাণ করেছেন মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ।
গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার রাত সাড়ে নয়টায় চ্যানেল আইয়ে প্রচার হচ্ছে এই সিরিয়াল। টেলিভিশনে প্রচারের পর সিনেমাওয়ালার ইউটিউব চ্যানেলে দেখা যায় প্রতি অ্যাপিসোড। আর দুই মাধ্যমেই সিরিয়ালটি হুমড়ি খেয়ে দেখেছেন দর্শক।
দেশের নাটকের ইতিহাসে ইউটিউবে এক ঘণ্টার কম সময়ে মিলিয়ন ভিউ এবং একদিনেই কোটি ভিউয়ের রেকর্ড করেছে ‘এটা আমাদেরই গল্প’। বর্তমানে সিরিয়ালটির ৪৬ পর্ব অতিক্রম করেছে, সিরিয়ালটি শেষ হচ্ছে ৫২ পর্বে। এরই মধ্যে সিরিয়ালের প্রতিটি চরিত্রই চরিত্রের নামে পরিচিতি পেয়েছে।
শনিবার রাজধানীর উত্তরায় ছিল সিরিয়ালটির শেষ লটের শুটিং। ৭ মাসের এই জার্নিতে শেষদিনের শুটিংয়ে নির্মাতা রাজ একত্র করেছিলেন ইরফান সাজ্জাদ, কেয়া পায়েল, খায়রুল বাসার, সুনেরাহ বিনতে কামাল, ইন্তেখাব দিনার, দীপা খন্দকার, মনিরা আক্তার মিঠু, ইশরাত অতিথি, স্নেহা, শিল্পী সরকার অপু, ডিকন নূর, মাহমুদুল ইসলাম মিঠুসহ একঝাঁক জনপ্রিয় শিল্পীদের।
শুরু থেকে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি নির্মাতা রাজকে সিরিয়ালটি নিয়ে কিছু সমালোচনা শুনতে হয়েছিল। তাকে প্রশ্ন ছুঁড়ে বলা হতো, এই সিরিয়াল তো পাকিস্তানের সিরিয়ালের কপি!
শেষদিন এই প্রসঙ্গে নির্মাতা রাজ বলেন, আমি প্রতিপর্বে শুরুতেই উল্লেখ করেছি এটা অনুপ্রাণিত। শুরুতে চারটি লাইনে কনসেপ্ট নিয়েছি, পরে নিজে গল্প বানিয়েছি। এই সিরিয়ালের নাম কনফিডেন্টলি ‘এটা আমাদেরই গল্প’ রাখার মূল কারণ এটা আমাদের দেশের এবং পরিবারের গল্প।
সাথে যোগ করে তিনি বলেন, এই জন্যই এই নাম দেয়া। এখানে প্রতিটি চরিত্র, সংলাপ, চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আমার সৃষ্টি করা। যেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি, সেখানের সাথে সম্পর্কগুলোর কোনো মিল নাই। এটা নিয়ে যারা সমালোচনা করে তাদের ধন্যবাদ ছাড়া কিছু বলার নাই।
”এই সিরিয়ালের নাম কনফিডেন্টলি ‘এটা আমাদেরই গল্প’ রাখার মূল কারণ এটা আমাদের দেশের এবং আমাদের পরিবারের গল্প। এই জন্যই এই নাম দেয়া। এখানে প্রতিটি চরিত্র, সংলাপ, চরিত্রগুলোর মধ্যে সম্পর্ক আমার সৃষ্টি করা। যেখান থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি, সেখানের সাথে সম্পর্কগুলোর কোনো মিল নাই। এটা নিয়ে যারা সমালোচনা করে তাদেরকে ‘ধন্যবাদ’ ছাড়া কিছু বলার নাই।”

মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ বলেন, মাত্র চল্লিশ মিনিটে মিলিয়ন ভিউ হচ্ছে দেখে পরিচিত অনেক নির্মাতা নাক সিটকিয়ে বলে, ওটা তো পাকিস্তানী কপি! ‘আসলে আঙুর ফল টক’ বলে একটা প্রবাদ আছে, এখানে সেটাই হয়েছে। দৈনিক বহু নাটক টিভি কিংবা ইউটিউবে প্রচার হয়। কিন্তু মানুষ কথা বলে পোস্ট করে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ নিয়ে। নিশ্চয়ই এই সিরিয়াল সামথিং স্পেশাল বলেই সবাই এটা নিয়ে কথা বলে।
মাইক, চাঁদের নিজের কোনো আলো নেই, গ্র্যাজুয়েট, ফ্যামিলি ক্রাইসিসের মতো জনপ্রিয় সিরিয়ালগুলোর নির্মাতা রাজ বলেন, পরিবারের গল্প নিয়ে ‘এটা আমাদেরই গল্প’ দর্শকদের ভালো লাগার পর এই ধরণের সিরিয়াল নির্মাণ যদি বেড়ে যায়, তাহলে আমার চেয়ে খুশী কেউ হবে না। আমার কাজকে যদি কেউ ফলো করে এগিয়ে যায় তাহলে আমি সত্যিই অনেক বেশি হ্যাপি হবো।
আগামীতে নতুন সিরিয়াল প্রসঙ্গে রাজ বলেন, সামনে যদি নতুন কোনো সিরিয়াল বানাই আরও সচেতনভাবে বানাবো। এপিসোডের ডিউরেশন অনেকে বাড়াতে বলেন। কিন্তু টিভিতে প্রচারের কারণে ইচ্ছে থাকলেও সম্ভব হয় না। তবে সামনে এগুলো মাথায় থাকবে।






