ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরুর দিকে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ তার সঙ্গে কিয়েভে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, আব্রামোভিচ ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সফর করেছিলেন এবং আলোচনার কয়েকটি পর্যায়ে ভূমিকা রেখেছিলেন।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আব্রামোভিচ তাকে বলেন যে, তিনি সরাসরি একটি বার্তা নিয়ে এসেছেন এবং চাইলে জেলেনস্কির পক্ষ থেকেও একটি বার্তা পুতিনের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে পরিচালনার শর্তও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, বৈঠকটি গোপন ছিল না, বরং রুশ পক্ষ জানতে চেয়েছিল কিয়েভ কী ধরনের সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত। এসময় তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, ইউক্রেন দোনবাস অঞ্চল থেকে সরে যাবে না এবং নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
জেলেনস্কি বলেন, তিনি আব্রামোভিচকে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, ইউক্রেনকে পরাজিত করে কোনো ভূখণ্ড দখলের সুযোগ রাশিয়াকে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে দোনবাস নিয়ে ইউক্রেনের অবস্থান অনড় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন আব্রামোভিচ। একসময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব চেলসির মালিক হিসেবে পরিচিত এই রুশ ধনকুবের যুদ্ধের প্রথম দিকে শান্তি আলোচনার মধ্যস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
এছাড়া কৃষ্ণ সাগর হয়ে শস্য রপ্তানি সংক্রান্ত চুক্তির আলোচনাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বারবার বলেছেন, দোনেৎস্ক ও লুহানস্কসহ ডানবাস অঞ্চল নিয়ে রাশিয়ার দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ বন্ধ হবে না। তবে জেলেনস্কি পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, ইউক্রেন নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না।
জেলেনস্কির মতে, যুদ্ধবিরতি সংঘাত নিরসনের সবচেয়ে দ্রুত পথ হতে পারে, তবে তা কোনোভাবেই ইউক্রেনের ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার সমতুল্য নয়। তিনি বলেন, ইউক্রেন শুধু সাময়িকভাবে লড়াই বন্ধ করতে নয়, বরং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নিতে চায়।





