ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নত না হওয়ার কামনা করেন বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিদিন ঈশ্বরের কাছে তিনি প্রার্থনা করেন যাতে দুই দেশের সম্পর্ক আগের মতোই থাকে এবং উন্নতি না ঘটে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ভারতের গণমাধ্যম এবিপি নিউজকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে বিশ্বশর্মা দাবি করেন, দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ থাকলে সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ে। যা আসামের জন্য সুবিধাজনক। তার ভাষায়, সম্পর্ক স্বাভাবিক হলে সীমান্তে নজরদারি শিথিল হয় এবং ‘পুশ-ব্যাক’ প্রক্রিয়াও কমে যায়।
সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কখনও কয়েকদিন বা কয়েক সপ্তাহ ধরে সন্দেহভাজনদের আটকে রেখে সুযোগ বুঝে রাতের অন্ধকারে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। এ ক্ষেত্রে তিনি পুরনো নাম ‘বিডিআর’ ব্যবহার করে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুপস্থিতির সুযোগ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এই মন্তব্যের একটি অংশ সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন সময়ে এই মন্তব্য এসেছে, যখন দিল্লি ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিতে নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে রাজনীতিক দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে ‘অনুপ্রবেশ’ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিশ্বশর্মা বলেন, ভারত থেকে কাউকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো সহজ নয়, কারণ বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে তাদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ফলে আইনগত প্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে ‘পুশ-ব্যাক’ পদ্ধতিই ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি।
তবে আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৫০ সালের ‘অভিবাসী (আসাম থেকে বহিষ্কার) নির্দেশ’ দিয়ে এ ধরনের ‘পুশ-ব্যাক’ বৈধ নয়। গৌহাটি হাইকোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া কাউকে এভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ঠেলে দেওয়া আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
এদিকে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, যাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানো হচ্ছে, তাদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছেন। এমন কিছু ক্ষেত্রে তাদের আবার ভারতে ফিরিয়েও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আসামের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও সীমান্ত ইস্যুতে চাপের প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য এলেও, তা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে সহায়ক নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিবাসন সমস্যার সমাধানে দুই দেশকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।






