স্থানীয় সরকারে ‘এমপি রাজ’ সৃষ্টির উদ্যোগ কেন

স্থানীয় সরকারে ‘এমপি রাজ’ সৃষ্টির উদ্যোগ কেন

সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদে বসার জায়গা করে দেওয়ার ফলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্যদের দ্বন্দ্ব চরমে উঠবে। কারণ, স্থানীয়ভাবে স্থায়ী অফিস স্থাপিত হলে সংসদ সদস্যরাই সব সিদ্ধান্ত নিতে চাইবেন। পিঁড়ির কোনায় কাউকে বসতে দিলে সেই ব্যক্তি পুরো পিঁড়ি দখল করতে চায়—এটিই স্বাভাবিক। কারণ, ক্ষমতার ধর্মই হলো যেখানে ক্ষমতা, সেখানে তা কুক্ষিগত এবং তার অপব্যবহার হয়।

এ ছাড়া সরকারের সিদ্ধান্তটি সরকার ও দলের মধ্যকার পার্থক্য তিরোহিত করবে, যার কুফল আমরা শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দেখেছি। সংসদ সদস্যরা উপজেলায় বসলে দলীয় নেতা-কর্মীদের পদচারণে উপজেলা পরিষদ মুখর হয়ে উঠবে। ফলে সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে উপজেলার সব কার্যক্রম দলের করায়ত্ত হয়ে যাবে, যা কারও জন্যই মঙ্গলকর হবে না।

পরিশেষে এটি না বললেই নয় যে সরকারি ও বিরোধী দলনির্বিশেষে সব সংসদ সদস্যকে সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতি স্বার্থপ্রণোদিত সমর্থন আমাদের হতাশ করেছে। বহু রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকারের মাধ্যমে গঠিত সংসদের কাছ থেকে আমরা অনেক ভালো কিছু আশা করেছিলাম। তাই মাননীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমাদের সনির্বন্ধ অনুরোধ, আপনারা জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সরকারের বর্তমান এবং অন্যান্য সিদ্ধান্তকে মূল্যায়ন করুন এবং জনগণের দোরগোড়ার সরকারকে কার্যকর ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিন।

  • ড. বদিউল আলম মজুমদার সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)

  • মতামত লেখকের নিজস্ব