ফেডারেল এমপি নেট এরস্কিন স্মিথ পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন – DesheBideshe

ফেডারেল এমপি নেট এরস্কিন স্মিথ পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন – DesheBideshe


ফেডারেল এমপি নেট এরস্কিন স্মিথ পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন – DesheBideshe

টরন্টোর Beaches East York আসনের ফেডারেল লিবারেল এমপি নেট এরস্কিন স্মিথ হাউস অব কমন্স থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। সিটিভির Power Play অনুষ্ঠানে ভ্যাসি ক্যাপেলোসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সংসদের চলতি অধিবেশন শেষ হওয়ার আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন, যাতে লিবারেল পার্টি তাঁর আসনে নতুন প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য যথেষ্ট সময় পায়।

হাউস অব কমন্সের গ্রীষ্মকালীন বিরতিতে যাওয়ার কথা ১৯ জুনের মধ্যে। সেই হিসেবে এরস্কিন স্মিথ পদত্যাগ করলে Beaches East York আসনে নতুন উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথ তৈরি হবে।

নেট এরস্কিন স্মিথ ২০১৫ সাল থেকে Beaches East York আসনের ফেডারেল এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। টরন্টোর এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি নগর আসন নয়, বরং মধ্যবিত্ত পরিবার, তরুণ ভোটার, পরিবেশ সচেতন নাগরিক এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক মনোভাবের মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ফলে এখানে লিবারেল প্রার্থী কে হচ্ছেন, সেটি শুধু স্থানীয় রাজনীতির বিষয় নয়; জাতীয় রাজনীতির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ।

এরস্কিন স্মিথের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে প্রাদেশিক রাজনীতিতে প্রবেশের পরিকল্পনা। তিনি স্কারবরো সাউথওয়েস্ট আসনের আসন্ন প্রাদেশিক উপনির্বাচনে অন্টারিও লিবারেল পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। ওই আসন থেকে প্রাদেশিক রাজনীতিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে অন্টারিও লিবারেল পার্টির নেতৃত্বের দৌড়ে নামার সম্ভাবনাও তাঁর সামনে ছিল। কিন্তু গত শনিবার অনুষ্ঠিত মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় তিনি আহসানুল হাফিজের কাছে পরাজিত হন।

এই পরাজয়ের পর এরস্কিন স্মিথ ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে অন্টারিও লিবারেল পার্টির কাছে আপিল করেছেন। তাঁর অভিযোগ, মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ভোটার পরিচয়পত্র, ঠিকানার প্রমাণ এবং ব্যালট গণনা নিয়ে অনিয়ম ছিল। তবে দলীয় নেতৃত্ব মনোনয়ন প্রক্রিয়ার সততা নিয়ে নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে। অন্তর্বর্তী নেতা জন ফ্রেজার বলেছেন, দলের প্রক্রিয়া ও arbitration committee এর কাজের ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা আছে। তাঁর মতে, আপিলটি দলীয় নিয়ম মেনে সতর্কতার সঙ্গে, ন্যায্যভাবে এবং দ্রুত পর্যালোচনা করা হবে।

এরস্কিন স্মিথ বলেছেন, স্কারবরো সাউথওয়েস্টে নতুন করে মনোনয়ন প্রতিযোগিতা হলেও তিনি আর সেখানে প্রার্থী হবেন না। তবে এই পরাজয় তাঁর প্রাদেশিক নেতৃত্বের সম্ভাবনাকে অনিশ্চিত করেছে। সিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, অন্টারিও লিবারেল পার্টির নেতৃত্বে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সম্ভাবনা এখন আগের তুলনায় অনেক কম। তাঁর ভাষায়, শুধু পরাজয়ের কারণে নয়, ফলাফল যেভাবে এসেছে, সেটিও তাঁর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, প্রাদেশিক রাজনীতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হলে তিনি কেন এখনো ফেডারেল আসন ছাড়ছেন। এরস্কিন স্মিথের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি আগেই কথা দিয়েছিলেন যে তিনি ফেডারেল আসন ছাড়বেন। তাঁর দাবি, এতদিন তিনি আসন ধরে রেখেছিলেন মূলত ফেডারেল লিবারেল পার্টিকে সহায়তা করার জন্য। কারণ তখন লিবারেল সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অনিশ্চিত ছিল। এখন দল তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বলে তিনি মনে করছেন।

গত এপ্রিলের ফেডারেল নির্বাচনের পর লিবারেলরা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ১৭২ আসন থেকে কয়েকটি আসন কম ছিল। পরে বিরোধী দল থেকে পাঁচজন এমপি লিবারেল শিবিরে যোগ দেন এবং কয়েকটি উপনির্বাচনে জয়ের ফলে দলটির আসন সংখ্যা দাঁড়ায় ১৭৪। সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনো বড় ব্যবধানের নয়। তাই এরস্কিন স্মিথের পদত্যাগ লিবারেলদের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

Beaches East York আসনে এরস্কিন স্মিথের পদত্যাগের পর লিবারেল মনোনয়ন ঘিরে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার আভাস ইতোমধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। iPolitics জানিয়েছে, আইনজীবী ও সাবেক সিনিয়র রাজনৈতিক কর্মকর্তা Claire Seaborn ওই আসনে লিবারেল মনোনয়নের কথা ভাবছেন। তিনি পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আইনজীবী। Torys আইন প্রতিষ্ঠানে তিনি জ্বালানি ও খনি খাতের জটিল প্রকল্প নিয়ে কাজ করেন। তবে সূত্র জানিয়েছে, Seaborn এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।

এই আসনে নতুন প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে। Beaches East York এমন একটি এলাকা, যেখানে ভোটাররা শুধু দলীয় প্রতীক দেখে ভোট দেন না; প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, নীতি, পরিবেশ ভাবনা এবং কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্কও এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি প্রগতিশীল ভোট ধরে রাখা এবং এনডিপির প্রভাব মোকাবিলা করা লিবারেলদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

Beaches East York আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচন তাই কেবল একটি শূন্য আসন পূরণের নির্বাচন হবে না। এটি হবে লিবারেল পার্টির সংগঠন, প্রার্থী বাছাই, স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোটার আস্থা যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এ আসনেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভোটার বসবাস করেন। ফলে লিবারেল মনোনয়ন দৌড়ে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কেউ আগ্রহ দেখাতে পারেন কি না, সেটিও এখন কমিউনিটির ভেতরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। এমনটি হলে Beaches East York এর লড়াই টরন্টোর বাংলাদেশি কমিউনিটির কাছেও বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠবে।

তথ্যসূত্র:
CTV News, ১৩ মে ২০২৬
The Canadian Press, ১৩ মে ২০২৬
iPolitics, ১৩ মে ২০২৬