মুসলিমদের জন্য আগামী পাঁচ বছরে কোনও কাজ করবেন না বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক রিতেশ তিওয়ারি।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তাকে এ মন্তব্য করতে দেখা যায়।
বুধবার ১৩ মে এক জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে রিতেশ তিওয়ারি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে আমি মুসলিমদের জন্য একটি কাজও করব না। তিনি দাবি করেন, নির্বাচনে মুসলিম অধ্যুষিত বুথগুলোতে তিনি একটি ভোটও পাননি।
বিধায়ক বলেন, গত ৭৪ বছরের নির্বাচনী ইতিহাসে আমি প্রথম প্রার্থী, যিনি মুসলিমদের একটি ভোটও পাননি। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদেরই আমার ওপর অধিকার রয়েছে। যারা ভোট দেয়নি, তাদের বাড়িতে আমি ভোট চাইতেও যাইনি। বাবা ভোলেনাথকে সাক্ষী রেখে বলছি, আগামী পাঁচ বছরে তাদের জন্য কোনো কাজ করব না। একটি সার্টিফিকেটও দেব না।
তিনি আরও বলেন, সভাটি সরাসরি সম্প্রচার করা হলেও কে কী ভাবছে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এবার ‘সবকা হিসাব’ নেওয়ার সময় এসেছে। তবে তিনি দাবি করেন, তা হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে কারও গায়ে হাত না তুলে বা কারও কাছ থেকে অর্থ না নিয়ে।
কাশীপুর-বেলগাছিয়া আসনে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও কলকাতা পৌরসভার ডেপুটি মেয়র আতিন ঘোষকে হারিয়ে জয় পান রিতেশ তিওয়ারি। নির্বাচনে তিনি ৬৮ হাজার ৩৬৮ ভোট পান, আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অতীন ঘোষ পান ৬৬ হাজার ৭১৭ ভোট।
পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া বক্তব্যেও নিজের মন্তব্যের পক্ষে অবস্থান নেন বিজেপি বিধায়ক।
তিনি বলেন, হিন্দু অধ্যুষিত বুথগুলোতে আমি কিছু ভোট পেয়েছি, অন্যরাও পেয়েছে। কিন্তু মুসলিম অধ্যুষিত বুথগুলোতে শুধু তৃণমূল কংগ্রেসই ভোট পেয়েছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছে, তাদের জন্যই আমি আমার সীমিত সম্পদ ব্যবহার করব।
তবে বিজেপির রাজ্য মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো ভিডিও বা অডিও দেখেননি, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারবেন না।
অন্যদিকে সিপিআই (এম) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি সংবিধানের চেতনাকে গুরুত্ব দেয় না এবং এই বক্তব্য তারই প্রতিফলন।
তার ভাষায়, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আমরা এমন বক্তব্য আগেও শুনেছি। এখন পশ্চিমবঙ্গেও তা শুরু হয়েছে। মানুষ এ ধরনের মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।






