বাফুফে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ | খেলা

বাফুফে সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ | খেলা

<![CDATA[

জুরিখ গিয়েও শেষ রক্ষা হলো না ফুটবল ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের। জালিয়াতি এবং মিথ্যাচারসহ ফিফার অন্তত চারটি আইন লঙ্ঘন করায় সব ধরণের ফুটবল কার্যক্রম থেকে তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা। একইসঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই অর্থ পরিশোধ করতে আবু নাঈম সোহাগকে।

বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগের বিরুদ্ধে অনিয়মের গন্ধ পেয়ে ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর তদন্ত শুরু করে ফিফা। ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাফুফের ব্যবহার করা তহবিলে অসঙ্গতি খুঁজে পায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তিন সদস্যের কমিটি গেল বছর ২৮ এপ্রিল সোহাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়া শুরু করে।

আরও পড়ুন: আত্মঘাতী গোলে নিজেদের সর্বনাশ করল ওসাসুনা

২০২০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত রিপোর্টে উঠে আসে সাধারণ সম্পাদকের অনিয়ম। আর্টিকেল ১৩, ১৫, ২৪ এবং ২৮ লঙ্ঘনের দায়ে তৈরি হয় প্রতিবেদন। যেখানে উঠে আসে অসততা, জালিয়াতি ও মিথ্যাচার এবং অর্থ অপব্যবহারের মতো গুরুতর বিষয়।

২০২০ সালের জুনে জাতীয় দলের জন্য স্পোর্টস ইকুয়েপমেন্ট ক্রয় বাবদ ৩০ হাজার ডলার (৩১ লাখ টাকার ওপরে) খরচ করে বাফুফে। যেখানে অনিয়ম পায় ফিফা। এছাড়াও একই বছর জানুয়ারিতে ৪০০ ফুটবল কিনতে প্রায় ১৪ হাজার ডলার (প্রায় ১৫ লাখ টাকা) খরচ করে বাফুফে।

২০১৯ সালে জাতীয় দলের ওমান যাত্রায় এয়ার টিকিটে ১৯ হাজার ৯২৫ ডলার (২১ লাখ টাকার ওপরে) খরচেও আপত্তি তোলে ফিফা। পাশাপাশি আরও কিছু খরচে অসঙ্গতি উঠে আসে তদন্ত প্রতিবেদনে। ফিফা অভিযোগ করে অর্থ লেনদেনের এসব অনিয়ম ঢাকতে আবু নাঈম সোহাগ মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন।

একইসঙ্গে ফরোয়ার্ড প্রোগ্রামের আওতায় পাওয়া অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করার প্রমাণ পায় ফিফা। সেখান থেকে সাত লাখ ডলারের বেশি পেলেও মাত্র ৯০ হাজার ডলার ব্যবহারের তথ্য দেয়া হয়। বাকি ৮৭ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের কোন সদুত্তোর দিতে পারেনি বাফুফে। এছাড়াও ছিল আরও আর্থিক অসঙ্গতি।

সবকিছু তদন্ত সাপেক্ষে গেল ২৬ অক্টোবর চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করে ফিফা। এর বিপরীতে আবু নাঈম সোহাগ এবং বাফুফে অর্থ কমিটির প্রধানসহ আরও কয়েকজনকে অবস্থান স্পষ্ট করতে বলে কমিটি। এজন্য গেল ফেব্রুয়ারিতে ফিফা সদর দফতরে হাজির হন অভিযুক্তরা। তবে তাদের বক্তব্য সন্তুষ্টি কুড়াতে পারেনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

আরও পড়ুন: সোহাগকে নিষিদ্ধ করল ফিফা

ফিফার লাল তালিকায় বাফুফের আরও কয়েকজন থাকলেও শুধু সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগকেই ফুটবলের সব ধরণের কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে দুই বছরের জন্য। একইসঙ্গে জরিমানা করা হয়েছে ১০ হাজার সুইস ফ্রা (প্রায় ১২ লাখ টাকা)। যদিও ফিফার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে সোহাগের।
 

]]>