‘দোস্ত, মাফ করে দিস যদি ফিরে না আসি।’ কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগে বন্ধু ও অভিনেতা ইরফান সাজ্জাদের সঙ্গে এটাই ছিল নাট্যকার ও নির্মাতা তানিন রহমানের শেষ কথাগুলোর একটি।
সেই কথার পরদিন কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সফল হলেও তার পরের দিনই অনন্তলোকের পথে পাড়ি জমান তানিন। বন্ধুর সেই শেষ কথাই এখন বারবার মনে পড়ছে ইরফান সাজ্জাদের।
তানিন রহমানের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক স্মৃতিচারণে এমনই আবেগঘন কথা লিখেছেন ইরফান। তিনি জানান, পরিচালক কিংবা লেখক হওয়ারও আগে তানিন ছিলেন তার খুব কাছের বন্ধু।
ইরফান লিখেছেন, ‘একজন ডিরেক্টর এবং রাইটার হওয়ার আগে তানিন ছিল আমার ভালো বন্ধু। অনেক ছোট থেকে শারীরিকভাবে ও যে স্ট্রাগলটা করেছে সেটা অভাবনীয়!’
তানিনের সঙ্গে শেষ কথোপকথনের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন ইরফান। অপারেশনে যাওয়ার আগে তানিনের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছিল তার। তখন কাঁদছিলেন তানিন। বন্ধুকে বলেছিলেন, ‘দোস্ত মাফ করে দিস যদি ফিরে না আসি।’
ইরফান তখন তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘তাড়াতাড়ি অপারেশন শেষ কর, আমি দেখা করতে আসবো।’
কিন্তু সেই দেখা আর হলো না। ইরফান জানান, পরদিন তানিনের কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু তার পরের দিনই এলো মৃত্যুর খবর। ইরফানের ভাষায়, “বুধবার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সাকসেসফুল হলো আর বৃহস্পতিবার মানুষটা নাই!’
বন্ধুর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর নিজেকে সামলাতে পারছিলেন না ইরফান। শুটিংয়েও মন দিতে পারেননি। বারবার চোখ ভিজে আসছিল তার।
তানিনের শেষ কথার প্রসঙ্গ টেনে ইরফানের মনে হয়েছে, হয়তো নিজের পরিণতি সম্পর্কে কোনো এক অজানা আশঙ্কা তার ছিল। তিনি লিখেছেন, ‘হয়তো তার জানা হয়ে গিয়েছিল সে আর ফিরে আসবে না!!’
তানিন রহমানের কাজের মূল্যায়ন করতেও ভুলেননি ইরফান। তার মতে, অনেক দর্শক হয়তো তানিনকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না, কিন্তু বড় বড় পরিচালকের বহু জনপ্রিয় কাজের পেছনের গল্পকার ছিলেন তিনি। পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও তানিন ছিলেন দুর্দান্ত- এমনটাই মনে করেন ইরফান।
স্মৃতিচারণের শেষদিকে বন্ধুর উদ্দেশে আবেগঘন বিদায় জানিয়েছেন এই অভিনেতা। তানিনের পাঠানো শেষ ভয়েস মেসেজটি যত্ন করে রেখে দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তোর লাস্ট পাঠানো ভয়েস এসএমএস টা আমি খুব যত্ন করে রেখে দিব দোস্ত। শান্তিতে ঘুমা।’
দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন তানিন রহমান। বুধবার মিরপুর কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে তার কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট সফলভাবে সম্পন্ন হয়। পরে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করলে মারা যান তিনি। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে নাটক লিখেছেন তানিন; তার গল্প ও চিত্রনাট্যে তৈরি হয়েছে দর্শকপ্রিয় বহু নাটক।






