বিট্টু শর্মা থেকে খিলজি, এক অভিনেতার বিস্ময়কর রূপান্তর | চ্যানেল আই অনলাইন

বিট্টু শর্মা থেকে খিলজি, এক অভিনেতার বিস্ময়কর রূপান্তর | চ্যানেল আই অনলাইন

রণবীর সিংয়ের বলিউড সফর কোন সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। যশরাজ ফিল্মসের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রযোজনা সংস্থার হাত ধরে ক্যারিয়ার শুরু হলেও এরপর নিজের জায়গা ধরে রাখার লড়াই ছিল বেশ কঠিন।

প্রথম ছবি ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’-এ দিল্লির সাধারণ যুবক বিট্টু শর্মার চরিত্রে তার স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় দর্শকদের নজর কেড়েছিল। মাত্র ১৫ কোটি রুপি বাজেটের সেই ছবি বক্স অফিসে প্রায় ৯৬ কোটি টাকা আয় করে এবং রাতারাতি আলোচনায় চলে আসেন রণবীর।

অভিষেকের পরই ‘লেডিজ ভার্সেস রিকি বহেল’-এ সম্পূর্ণ ভিন্ন চরিত্রে দেখা যায় তাকে। এক ধূর্ত প্রতারকের ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি প্রমাণ করেন, রোম্যান্টিক নায়কের গণ্ডিতে আটকে থাকতে রাজি নন। সেই সময় আনুশকা শর্মার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও জোর চর্চা শুরু হয়।

তবে রণবীরের ক্যারিয়ারের আসল মোড় ঘুরিয়ে দেয় সঞ্জয় লীলা বানশালী পরিচালিত ‘গোলিয়োঁ কি রাসলীলা রাম-লীলা’। এই ছবি শুধু অভিনেতা হিসেবে তাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়নি, ব্যক্তিগত জীবনেও নিয়ে আসে বড় পরিবর্তন। ছবির সেটেই শুরু হয় দীপিকা পাডুকোনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক, যা পরবর্তীতে বিয়েতে গড়ায়।

এরপর ‘গুন্ডে’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’ এবং ‘পদ্মাবত’-এর মতো ছবিতে একের পর এক কঠিন চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান রণবীর। বিশেষ করে আলাউদ্দিন খিলজি চরিত্রে তার অভিনয় আজও বলিউডের অন্যতম স্মরণীয় পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়। চরিত্রের তীব্রতা ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে যথেষ্ট চাপও নিতে হয়েছিল তাকে।

অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠা, চরিত্রের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণ বদলে ফেলার মানসিকতা এবং ধারাবাহিকভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণের সাহস এই তিন গুণই রণবীর সিংকে তার প্রজন্মের অন্যতম সফল অভিনেতা করে তুলেছে। প্রথম ছবির ‘বিট্টু শর্মা’ থেকে আজকের প্যান-ইন্ডিয়া সুপারস্টার হয়ে ওঠার এই যাত্রাই তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সাফল্যের গল্প।