
ওয়াশিংটন, ২২ সেপ্টেম্বর- বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যে ফিফার পরিচালন কাঠামো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা পর্যালোচনার জন্য একটি স্বাধীন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে সম্ভাব্য উন্নয়নের সুপারিশ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন ইনফান্তিনো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রয়টার্সের দেখা একটি চিঠিতে ফিফা কাউন্সিল এবং ২১১টি সদস্য সংস্থার সব সভাপতিকে ইনফান্তিনো লিখেছেন, “প্রথমত, আমি কাউন্সিলকে জিজ্ঞাসা করব যে তারা প্রধান কৌশলগত উদ্যোগগুলোর জন্য ফিফার বর্তমান শাসন কাঠামোর একটি স্বাধীন বাহ্যিক পর্যালোচনা করতে এবং সম্ভাব্য উন্নতির জন্য সুপারিশ করতে ইচ্ছুক কি না।”
তিনি আরও বলেন, ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া শক্তিশালী করার জন্য তিনি কনফেডারেশন, সদস্য সংস্থা এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেবেন। এসব প্রস্তাবে খতিয়ে দেখা হবে, প্রধান উদ্যোগগুলোতে কাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে সভাপতি, ব্যুরো, কাউন্সিল ও কংগ্রেসের নিজ নিজ ভূমিকা এবং কীভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানো যায়, সেসব বিষয়ও থাকবে।
বিশ্বকাপসহ ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার প্রস্তাব দেওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন ইনফান্তিনো। বিরোধিতা ও বর্জনের হুমকির পর জুলাই মাসে পরিকল্পনাটি পরিত্যক্ত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তনের আহ্বান জানায় উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ও কনক্যাকাফ।
তবে ইনফান্তিনোকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য একজন প্রার্থী খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে বিরোধীরা। আগামী মার্চে পুনর্নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা আগেই দিয়েছেন ফিফার বর্তমান সভাপতি। এই আলোচনা সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো এই মাসে রয়টার্সকে জানিয়েছে, জেতার জন্য ইনফান্তিনোর এখনও যথেষ্ট ভোট রয়েছে। ফলে বিরোধীরা তার ক্ষমতা খর্ব করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে।
ইনফান্তিনো বলেছেন, পরিত্যক্ত পরিকল্পনায় খতিয়ে দেখা হয়েছিল, ফিফা-নিয়ন্ত্রিত একটি বাণিজ্যিক কোম্পানির সংখ্যালঘু অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ফুটবলের উন্নয়নের জন্য আরও অর্থ সংগ্রহ করা যায় কি না। তিনি বলেন, এতে ক্রীড়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার কোনো বিষয় থাকত না।
তবে ইনফান্তিনো বলছেন, কাউন্সিল ও সদস্য সংগঠনগুলোর কাছে প্রস্তাবটি সম্পূর্ণভাবে উপস্থাপন করার আগেই তা জনসমক্ষে চলে আসে। সোমবার পাঠানো চিঠিতে ফিফা সভাপতি জোর দিয়ে এই দাবি করেন।
“আমি স্বীকার করি যে, সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রকাশ পাওয়ায় এটি অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং এমন ধারণা তৈরি করেছে যে, সিদ্ধান্তগুলো ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়ে গেছে। কিন্তু আসলে তা হয়নি।
এটি একটি প্রস্তাব ছিল, কোনো সিদ্ধান্ত নয় এবং এটি সবসময় কাউন্সিল ও সদস্য সমিতিগুলোর প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এটি এখন প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং আর অগ্রসর হবে না।”
ইনফান্তিনো বলেছেন, প্রধান কৌশলগত প্রশ্নগুলোর সিদ্ধান্ত কে নেবেন, সে বিষয়ে তিনি ভিন্ন ভিন্ন মতামত শুনেছেন। কেউ কেউ ব্যুরোতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের পক্ষে ছিলেন, আবার অন্যরা এসব বিষয় সরাসরি কংগ্রেস ও সদস্য সংগঠনগুলোর কাছে উত্থাপন করতে চেয়েছিলেন।
তিনি বলেন, “সেই আলোচনার বিষয়ে আগে থেকে কোনো মন্তব্য করা আমার কাজ নয়। যারা একটি নির্দিষ্ট মডেল সমর্থন করেন, তাদের নিজেদের যুক্তি স্পষ্টভাবে তুলে ধরার সুযোগ থাকা উচিত।”
১৫ অক্টোবরের কাউন্সিল সভায় পাওয়া পরামর্শগুলো নিয়ে আলোচনা করা হতে পারে এবং পরবর্তীতে জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলোও একটি অনির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিবেচনা করা হতে পারে। ফিফার বিধিতে যেকোনো পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হয়।
ইনফান্তিনো আরও বলেছেন, প্রস্তাব বা প্রশাসনিক বিষয়ে সদস্য সংগঠনগুলোর অবস্থান ফিফার আচরণকে প্রভাবিত করবে না, কারণ ফিফার উন্নয়ন ও সংহতি কর্মসূচিগুলো বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ীই চলতে থাকবে।
তিনি বলেন, “কোনো প্রস্তাব বা প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে কোনো সংগঠনের অবস্থানের ওপর তার আচরণ নির্ভর করবে না।”
ফিফা সভাপতি বলেন, “ফিফাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং একসঙ্গে আমরা যা অর্জন করতে পারি, তা নিয়ে খুবই আত্মবিশ্বাসী।”
এস এম/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

