‘বিদেশি বিনিয়োগ মানে শুধু টাকা নয়, একই সঙ্গে নলেজ ও টেকনোলজি ট্রান্সফার’ | চ্যানেল আই অনলাইন

‘বিদেশি বিনিয়োগ মানে শুধু টাকা নয়, একই সঙ্গে নলেজ ও টেকনোলজি ট্রান্সফার’ | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বহুজাতিক করপোরেট নেতৃত্বের আলোচনায় কয়েক দশক ধরে যে কজন ব্যক্তিত্ব ধারাবাহিকভাবে প্রভাব রেখে চলেছেন, তাদের অন্যতম সৈয়দ এরশাদ আহমেদ।

চার দশকেরও বেশি সময়ের পেশাগত অভিজ্ঞতা, দেশি-বিদেশি করপোরেট প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব, ব্যবসায়ী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন এবং নীতি-সংলাপে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক অঙ্গনের একটি পরিচিত ও সম্মানিত মুখে পরিণত করেছে।

বর্তমানে তিনি বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান ম্যাক গ্রুপের ডেপুটি চেয়ারম্যান ও ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের লজিস্টিকস খাতের অন্যতম পথিকৃৎ প্রতিষ্ঠান এক্সপেডিটরস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার কর্মজীবনের বিস্তার শুধু বাংলাদেশে সীমাবদ্ধ নয়; সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্ব পালন করে তিনি আন্তর্জাতিক ব্যবসা পরিচালনার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

সৈয়দ এরশাদ আহমেদের কর্মজীবনের শুরু হয়েছিল বহুজাতিক করপোরেট পরিবেশে। ফিলিপস এবং সিঙ্গারের মতো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করে তিনি ব্যবসা পরিচালনা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক করপোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফরচুন ফাইভ হান্ড্রেড কোম্পানি এক্সপেডিটরসের সঙ্গে যুক্ত হয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেন। এই অভিজ্ঞতা তার দৃষ্টিভঙ্গিকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তৃত করে এবং বাংলাদেশে আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সহায়তা করে।

তবে তাকে শুধু একজন সফল করপোরেট নির্বাহী হিসেবে দেখলে তার পরিচয় অসম্পূর্ণ থেকে যায়। কারণ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মাধ্যমে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তিনি দুই দফায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচাম)-এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রথমবার দায়িত্ব নেন ২০০৭ সালে, যখন দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশ ছিল অনিশ্চয়তায় পূর্ণ। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের শেষ দিকে আবারও সংগঠনটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে কোভিড-১৯ মহামারি।

সেই সময়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “লাস্ট ছয় বছর খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। ২০২০ সালের শুরু থেকেই আমাদের শুরু হয়ে গেল প্যান্ডেমিক। দুই বছর আমরা কোভিডের কারণে অনেক কিছু করতে পারিনি। কিন্তু অ্যামচাম কখনো পিছিয়ে পড়েনি।”

মহামারির সময় বিশ্বের বহু ব্যবসায়ী সংগঠন কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হলেও অ্যামচামকে সক্রিয় রাখার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত নীতি-সংলাপ, সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্যসংক্রান্ত আলোচনা এবং গবেষণাধর্মী প্রকাশনা অব্যাহত রাখা হয়। তার উদ্যোগে অ্যামচামের জার্নালকে আরও পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার কাজও এগিয়ে যায়। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে প্রকাশনাটির জন্য আইএসএসএন নম্বর সংগ্রহ করা হয় এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

অ্যামচামের সঙ্গে তার সম্পর্ক অবশ্য সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের অনেক আগের। সংগঠনটির জন্মলগ্ন থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত। তার ভাষ্যমতে, ১৯৯৬ সালে অ্যামচামের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলেও এর ভিত্তি তৈরি হয়েছিল আরও আগে আমেরিকান-বাংলাদেশ ইকোনমিক চেম্বারের মাধ্যমে। সে সময়ের উদ্যোক্তা ও করপোরেট নেতাদের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন এবং প্রতিষ্ঠাকালীন প্রথম বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এই দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাকে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিবর্তনের প্রত্যক্ষ সাক্ষীতে পরিণত করেছে। তিনি প্রায়ই উল্লেখ করেন, অ্যামচামের যাত্রার সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। আজ সেই বাণিজ্য কয়েক বিলিয়ন ডলারের পর্যায়ে পৌঁছেছে। তার মতে, এই অগ্রগতির পেছনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক নীতি-সংলাপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

অ্যামচামের বাইরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)-এর সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়া। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি সংগঠনটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ, নীতিগত সংস্কার এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়গুলো তিনি সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্বের পাশাপাশি তিনি একজন চিন্তাশীল লেখক হিসেবেও পরিচিত। দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোতে নিয়মিত কলাম লিখে তিনি অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শিক্ষা, অবকাঠামো এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেমিনার, সম্মেলন ও নীতি-আলোচনায় বক্তা ও সভাপতিত্বকারী হিসেবে তাঁর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য।

২০১২ সালে সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের আয়োজনে ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল বিজনেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রিত একমাত্র বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নেতা ছিলেন তিনি। এই আমন্ত্রণ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

শুধু ব্যবসা নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততা দীর্ঘদিনের। তরুণ বয়সে বয় স্কাউট আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নেতৃত্ব ও সামাজিক সেবার যে চর্চা শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়েও অব্যাহত থাকে। রোটারি ইন্টারন্যাশনালের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। ঢাকার একাধিক রোটারি ক্লাবের সভাপতি, সহকারী গভর্নর এবং লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি রোটারি বাংলাদেশের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সৈয়দ এরশাদ আহমেদ যুক্তরাজ্যের চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টের ফেলো। পেশাগত জীবনে অর্জন করেছেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নানা সম্মাননা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ ও কাজের অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও ব্যবসার প্রবণতা সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি দিয়েছে, যা পরবর্তীতে বাংলাদেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যনীতি নিয়ে তার অবস্থানকে আরও সুসংহত করেছে।

সৈয়দ এরশাদ আহমেদের দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম কেন্দ্রীয় বিষয় হলো বিদেশি বিনিয়োগ। তার বিশ্বাস, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং শিল্পায়নের পরবর্তী ধাপ সফল করতে বিদেশি বিনিয়োগের বিকল্প নেই। তবে তিনি কখনোই বিদেশি বিনিয়োগকে কেবল মূলধন প্রবাহ হিসেবে দেখেন না। বরং তিনি এটিকে জ্ঞান, প্রযুক্তি, দক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনা সংস্কৃতি স্থানান্তরের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন।

তার ভাষায়, “বিদেশি বিনিয়োগ হলে শুধু টাকা আসে না। নলেজ ট্রান্সফার হয়, টেকনোলজি ট্রান্সফার হয়, স্কিল ডেভেলপমেন্ট হয়। আজকে বাংলাদেশের অনেক বড় প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে যারা আছেন, তাদের অনেকেই একসময় বিদেশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।”

এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে তার নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে তিনি প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্কৃতি একটি দেশের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বদলে দিতে পারে। তাঁর মতে, বিদেশি কোম্পানিগুলো শুধু কর্মসংস্থান তৈরি করে না; তারা নতুন প্রজন্মের ব্যবস্থাপক, প্রকৌশলী ও পেশাজীবীও তৈরি করে।

তবে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কিছু পুরোনো দুর্বলতা নিয়ে তিনি বরাবরই সরব। তার মতে, সবচেয়ে বড় বাধা দেশের ভাবমূর্তি। বিশেষ করে দুর্নীতির ধারণা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “দুর্নীতির কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে পড়ি। বাংলাদেশের একটা বদনাম আছে বাইরে যে আমরা দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। এই ইমেজ থেকে যদি বের হতে না পারি, তাহলে বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন হবে।”

শুধু ভাবমূর্তি নয়, আমলাতান্ত্রিক জটিলতাও তার উদ্বেগের বড় কারণ। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যখন নতুন প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশে আসেন, তখন অনুমোদন, লাইসেন্স এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়েন। ফলে অনেক সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত অন্য দেশে চলে যায়।

এ প্রসঙ্গে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাংয়ের উদাহরণ তুলে ধরেছেন। তার মতে, একসময় বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম স্থাপনের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির আগ্রহ ছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় পর্যায়ে দ্রুত সাড়া এবং সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরবর্তীতে ভিয়েতনাম এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বৈশ্বিক প্রযুক্তি উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

তার দৃষ্টিতে বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য শুধু কর-সুবিধা দিলেই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন প্রশাসনিক সংস্কার, নীতির ধারাবাহিকতা এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি। তিনি মনে করেন, বিনিয়োগকারীরা প্রথমে কর ছাড় নয়, বরং পূর্বানুমানযোগ্য ও স্থিতিশীল পরিবেশ খোঁজেন।

অর্থনৈতিক উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত হিসেবে তিনি লজিস্টিকস খাতের আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন। তার মতে, বাংলাদেশে একটি সমন্বিত জাতীয় লজিস্টিকস কৌশল দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজন ছিল। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে আমদানি-রপ্তানির সময় কমাতে হবে, বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে হবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ করতে হবে।

তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় আমদানি-রপ্তানিতে বেশি সময় লাগে। এই লিড টাইম কমাতে না পারলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা কঠিন হবে।”

শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন প্রসঙ্গেও তার অবস্থান স্পষ্ট। তিনি মনে করেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের ওপর বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিকে তিনি জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে দেখেন।

তার ভাষায়, “প্রাথমিক পর্যায়ে যদি শিক্ষার্থীদের ঠিকভাবে গড়ে তোলা না যায়, তাহলে পরবর্তীতে তাদের উন্নয়ন করা কঠিন হয়ে যায়। তাই শিক্ষকতার মান উন্নয়নে বিনিয়োগ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

নেতৃত্ব গড়ে তোলাকেও তিনি নিজের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখেন। অ্যামচামের নেতৃত্ব ছাড়ার সময় তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন যে তার প্রধান লক্ষ্য ছিল নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা।

তিনি বলেন, “আমি লিডারশিপ তৈরির পিছনে জোর দিয়েছিলাম, যাতে ভবিষ্যতে একটা লিগ্যাসি তৈরি হয়ে যায়। আজ আমি খুশি যে নতুন অনেক মানুষ তৈরি হয়েছে, যারা ভবিষ্যতে অ্যামচামের দায়িত্ব নিতে পারবে।”

বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী বাস্তবতার দিকে এগোচ্ছে। এই পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে সৈয়দ এরশাদ আহমেদ মনে করেন, আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে বড় সুযোগ।

তার মতে, দুর্নীতি কমানো, আইনের শাসন নিশ্চিত করা, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদার করা, শ্রমমান উন্নত করা এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে বাংলাদেশ বিদেশি বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে করপোরেট নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, লজিস্টিকস উন্নয়ন এবং ব্যবসায়িক কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও সীমাবদ্ধতা দুটোকেই কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতার সারমর্ম তিনি এক বাক্যে প্রকাশ করেন—বিদেশি বিনিয়োগ মানে শুধু অর্থের প্রবাহ নয়; এটি একটি দেশের জ্ঞান, দক্ষতা, প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ সক্ষমতা নির্মাণেরও পথ। বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী অধ্যায়ে এই উপলব্ধিই তাঁর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।