ব্যাংক খাতে ‘দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ’ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা | চ্যানেল আই অনলাইন

ব্যাংক খাতে ‘দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ’ প্রায় ১১ লাখ কোটি টাকা | চ্যানেল আই অনলাইন

এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ

দেশের ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ আরও বেড়েছে। গত বছর রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পুনঃতপশিল করা হলেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একই সঙ্গে পুরো খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন-২০২৫’ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতপশিল করা ঋণের মধ্যে অনাদায়ী রয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবলোপন করা ঋণের স্থিতি ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা।

দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলতে খেলাপি ঋণ, পুনঃতপশিল করা ঋণের অনাদায়ী অংশ এবং অবলোপন করা ঋণের সমষ্টিকে বোঝানো হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ কর্মসূচির শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য প্রকাশ করছে।

এক বছর আগে, ২০২৪ সালের শেষে ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ। সে হিসাবে এক বছরে এ ধরনের ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

ঋণের মানের অবনতির প্রভাব পড়েছে ব্যাংকগুলোর মূলধন সক্ষমতার ওপরও। নিয়ম অনুযায়ী ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর মূলধন পর্যাপ্ততার হার কমপক্ষে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থাকার কথা। কিন্তু ২০২৫ সালের শেষে পুরো ব্যাংক খাতে এ হার ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। আগের বছর তা ছিল ইতিবাচক ৩ দশমিক ০৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০টি ব্যাংকের প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার মূলধন ঘাটতির কারণে পুরো খাতের চিত্র নেতিবাচক হয়েছে।

এদিকে ২০২৫ সালে রেকর্ড ১ লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল করা হয়েছে। তবে এত বড় অঙ্কের পুনঃতপশিলের পরও খেলাপি ও দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের চাপ কমেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলেও ইসলামী ব্যাংকিং খাত বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের শেষে এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ৪৩ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমেছে। পাশাপাশি ইসলামী ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সূচক বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এ খাতের দুর্বলতা দেশের সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি তৈরি করছে।