বলিউডে তারকা হওয়ার পথটা সবার জন্য এক নয়। কেউ পারিবারিক পরিচয়ের সুবিধা পান, কেউ আবার বছরের পর বছর সংগ্রাম করে নিজের জায়গা তৈরি করেন। পাঞ্জাবের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা অভিনেতা সুবিন্দর ভিকির গল্পটাও তেমনই!
অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে মুম্বাইয়ে এসেছিলেন মাত্র ৫ হাজার রুপি নিয়ে। টিকে থাকার জন্য একসময় বিক্রি করেছেন বিমা। অথচ সেই তিনিই ৫০ বছর বয়সে এসে এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
ইমরান হাশমি অভিনীত ‘আওয়ারাপন ২’-এ অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন করে দর্শকের নজর কেড়েছেন সুবিন্দর। সিনেমাটির সাফল্যের পাশাপাশি তার অভিনয়ও প্রশংসা পাচ্ছে।
পকেটে ৫ হাজার, চোখে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন
পাঞ্জাবের একটি পরিবারে সুবিন্দরের বেড়ে ওঠা, যে পরিবারের দূর সম্পর্কের কেউ ও সিনেমার সাথে যুক্ত নন। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি আগ্রহ ছিল তার। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণও নেন তিনি। পাঞ্জাবি বিশ্ববিদ্যালয়, পাতিয়ালায় থিয়েটার অ্যান্ড টেলিভিশনে মাস্টার্স করেন।
এরপর বলিউডে ভাগ্য পরীক্ষার জন্য পাড়ি জমান মুম্বাইয়ে। একটি থিয়েটার নাটক থেকে পাওয়া ৫ হাজার রুপি ছিল তার সম্বল। সেই অর্থ নিয়েই স্বপ্নের শহরে পৌঁছান।
কিন্তু বাস্তবতা ছিল কঠিন। সঞ্চয়ের টাকা দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এমন সময়ও গেছে, যখন একবেলা খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। শেষ পর্যন্ত মুম্বাই ছাড়তে হয় তাকে। মাত্র এক মাসের মধ্যেই ফিরে যান পাঞ্জাবে। তবে স্বপ্ন থেকে সরে যাননি।
অভিনয়ের পাশাপাশি বিক্রি করেছেন বিমা
পাঞ্জাবে ফিরে ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন সুবিন্দর। ২০০৪ সালে ‘দেশ হোয়া পরদেশ’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। এরপর প্রায় এক দশক পাঞ্জাবি সিনেমায় কাজ করেন।
হিন্দি সিনেমায় অভিষেক হয় ‘উড়তা পাঞ্জাব’ দিয়ে। পরে অক্ষয় কুমারের ‘কেসরি’ ছবিতেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাকে।
তবে অভিনয় থেকে নিয়মিত আয় না থাকায় জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্য কাজও করতে হয়েছে তাকে। একসময় বিমা পলিসি বিক্রি করতেন সুবিন্দর।
‘ফিল্ম কম্প্যানিয়ন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাদের পরিবারে সাধারণত খামারের কাজ করা অথবা নিয়মিত চাকরি করার প্রবণতা ছিল। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়া ছিল তার জন্য সহজ কোনো সিদ্ধান্ত নয়।
তার কথায়, অভিনয়কে নিয়মিত ৯টা-৫টার চাকরির মতো মনে হতো না। তাই পরিবারের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিয়মিত কাজ করার চেষ্টা করলেও অভিনয় থেকে দূরে থাকার কথা ভাবলেই তার উদ্বেগ হতো।
৫০ বছর বয়সে বদলে গেল জীবন
বছরের পর বছর ছোট-বড় চরিত্রে কাজ করার পর অবশেষে ৫০ বছর বয়সে এসে সুবিন্দরের ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন।
নেটফ্লিক্সের সিরিজ ‘কোহরা’-তে জটিল ধূসর চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। সিরিজটি তার ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এতদিনের সংগ্রামের পর বড় পরিসরে দর্শকের কাছে পরিচিতি পান সুবিন্দর।
এরপর রণবীর সিংয়ের ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’-এও ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। সেখানে অর্জুন রামপালের চরিত্র মেজর ইকবালের বাবার ভূমিকায় দেখা যায় তাকে।
দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’-এও নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন সুবিন্দর। সেখানে এসএসপি সুরজিৎ সিং সুগ্গার চরিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়।



