বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন: দেশের বাজারেও কি কমছে ভরিপ্রতি দাম? – DesheBideshe

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন: দেশের বাজারেও কি কমছে ভরিপ্রতি দাম? – DesheBideshe


বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন: দেশের বাজারেও কি কমছে ভরিপ্রতি দাম? – DesheBideshe

ঢাকা, ০৬ নভেম্বর – বিশ্ববাজারে হঠাৎ করেই কমে গেছে দামি ধাতু সোনার দাম। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার জেরে মূল্যস্ফীতির নতুন উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখার সম্ভাবনাই এই পতনের মূল কারণ। আন্তর্জাতিক বাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) দেশের বাজারেও সোনার দামে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না—তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে।

বিশ্ববাজারে সোনার দরপতন ও কারণ

শুক্রবার সকালে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স নেমে আসে ৪ হাজার ৬৩ দশমিক ৩৯ ডলারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, যা সোনা ধরে রাখার খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা চরম সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

এরই মধ্যে প্রখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সোনার দামের পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে। আগে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৬৫০ ডলার ধরা হলেও তা কমিয়ে ৪ হাজার ১৫০ ডলার নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

দেশের বাজারে বর্তমান স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারেও সোনার দাম কিছুটা সমন্বয় করেছে। দেশের বাজারে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনায় দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ৭৪১ টাকা।

ফলে বর্তমানে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার নতুন দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ টাকা। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দেশের বাজারেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রযুক্তি বাজারে ধস ও অন্যান্য খবর

সোনার বাজারের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়া এবং প্রযুক্তি খাতে কঠোর নজরদারির আশঙ্কায় এশিয়ার প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এর প্রভাব পড়েছে খোদ মার্কিন শেয়ারবাজারেও।

এখন সবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের দিকে। ডিসেম্বরে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে সিএমইর ফেডওয়াচ টুলে ৬৮ শতাংশ সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং তেলের বাজারের গতিবিধিই এখন নির্ধারণ করে দিচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতির পরবর্তী দিকনির্দেশনা।

এনএন/ ০৬ নভেম্বর ২০২৬