২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর বাংলাদেশের ব্রাজিল সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়ে আবেগঘন বার্তা দিয়েছে ঢাকাস্থ ব্রাজিল দূতাবাস।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে পাওলো এফ ডি ফেরেসের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজার পর বিশ্বের কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থকের মতো বাংলাদেশের সমর্থকরাও একই ধরনের হতাশা অনুভব করেছেন। তবে এই কঠিন সময়েও বাংলাদেশের মানুষের অকৃত্রিম সমর্থন ও ভালোবাসা ব্রাজিলের জনগণকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।
বাংলাদেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলা হয়, ব্রাজিলের জার্সি পরা, পতাকা ওড়ানো, খেলোয়াড়দের জন্য কণ্ঠ মিলিয়ে সমর্থন জানানো এবং আন্তরিকভাবে দলের পাশে থাকার জন্য ব্রাজিল চিরকৃতজ্ঞ। বাংলাদেশের মানুষের এই ভালোবাসা দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করেছে।
ব্রাজিলের মানুষের কাছে ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়; এটি স্মৃতি, শৈশব, পরিবার, সঙ্গীত, আনন্দ ও আশার প্রতীক। তাই পরাজয়ের বেদনাও তাদের কাছে গভীর। তবে এই কষ্টই নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি জোগায়। ব্রাজিলের সুখ-দুঃখে যেভাবে বাংলাদেশের সমর্থকরা পাশে থেকেছেন, তা দুই দেশের ভৌগোলিক দূরত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতির সীমা অতিক্রম করে এক অনন্য বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে।
বিবৃতিতে ব্রাজিল জাতীয় দলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) ফুটবল সমন্বয়ক রদ্রিগো কায়েতানোর বক্তব্যও তুলে ধরা হয়। তারা বলেছেন, এই পরাজয় কোন গল্পের সমাপ্তি নয়; বরং এটি নতুন এক যাত্রার সূচনা। দলকে নতুনভাবে গড়ে তোলা, ধৈর্য, প্রতিশ্রুতি এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
দূতাবাসের ভাষ্য, ব্রাজিল আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ পরাজয় কাটিয়ে উঠে ফিরে আসা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য।
বিবৃতির শেষাংশে আশা প্রকাশ করা হয়, খুব শিগগিরই আবারও হলুদ জার্সির উজ্জ্বলতা, সাম্বার ছন্দ এবং ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আনন্দ ফিরে আসবে। আর সেই প্রত্যাবর্তনের মুহূর্তে কঠিন সময়ে পাশে থাকা বাংলাদেশের সমর্থকদের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে ব্রাজিল।





