ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বিশেষজ্ঞ শিক্ষক আরও বলেন, ‘তিনজনকেই নেওয়া হলো। কিন্তু যিনি সেকেন্ড পজিশনে ছিলেন, তাঁকে স্কিপ করে চতুর্থ পজিশনে যিনি ছিলেন, তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলো। তখন আমি এটার প্রতিবাদ করে ভিসি স্যারকে বলেছিলাম, স্যার, আপনি নিজেই তো প্রার্থীদের নাম লিখেছিলেন। কার নাম প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়…রাখা হবে, সবার সম্মতিতে আমরা নির্ধারণ করেছিলাম। এখানে বিবেচনা ছিল ভাইভার পারফরম্যান্স ও একাডেমিক ক্যারিয়ার। কেউ কোনো দ্বিমত জানাননি। এখন কিসের বিবেচনায় তাঁকে আমরা স্কিপ করছি। সেটি আমার প্রশ্নের জায়গা ছিল। আমি বলেছিলাম, স্যার, এটা বোধ হয় উচিত হচ্ছে না। তখন তাঁরা বলার চেষ্টা করেছেন, যেহেতু তিনি (চতুর্থ স্থানে থাকা প্রার্থী) এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাঁকে প্রায়োরিটি দেওয়া আরকি। তখন মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর একটা কথা বলেছিলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করলে এটা শোভনীয় হয় না, কিন্তু সামগ্রিক কথা চিন্তা করে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে।”’
দ্বিতীয় স্থানে থেকেও বাদ পড়া এ সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিয়োগ বোর্ডে নির্বাচিত হয়েও পরে কোনো কারণ ছাড়াই বাদ দেওয়া, এটা অবশ্যই বড় ধরনের জালিয়াতি। আমার সঙ্গে বেইনসাফি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের স্বাক্ষর ছাড়াই সিন্ডিকেটে নিয়োগটি পাস করার পেছনে বড় ধরনের কোনো অনিয়ম থাকতে পারে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়। এটি জনগণের টাকায় চলে। তাহলে কেন নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানোর দরকার ছিল।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বিগত নকীব (সাবেক উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব) প্রশাসন তাদের জামায়াত-শিবিরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে নানা আয়োজন করেছে। উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগেও অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।




