
ইসলামাবাদ, ১৮ আগস্ট – ভারতের তৈরি ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামক একটি তথ্যচিত্রকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। দেশটির সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বলিউড সিনেমার মতো নাটকীয়ভাবে ঘটনা উপস্থাপন করে যুদ্ধের প্রকৃত ফলাফল আড়াল করা যাবে না।
তারা দাবি করেছে, এই তথ্যচিত্রটি সামরিক পরাজয়কে সাফল্য হিসেবে দেখানোর একটি নিছক প্রচেষ্টা মাত্র। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মার্কা-ই-হক’ সংঘর্ষের এক বছরের বেশি সময় পার হলেও ভারত বাস্তবতাকে স্বীকার করতে পারছে না। ব্যর্থ অভিযানের দায় এড়াতে তারা ইতিহাসকে নিজেদের মতো করে সাজিয়ে বলছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী এই তথ্যচিত্রটিকে অতিরিক্ত নাটকীয় ও তথ্যগতভাবে ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ভারতীয় রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সাক্ষাৎকার সংবলিত এই চিত্রটি আদতে কোনো সামরিক জয়ের ইতিহাস কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, তথ্যচিত্রটিতে গভীরতা ও ভারসাম্যের দারুণ অভাব রয়েছে।
একে একই সঙ্গে ট্র্যাজেডি ও কমেডি বলা যায়। সেখানে আবেগঘন বর্ণনা এবং বলিউডি দৃশ্যায়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত তথ্যগুলো বদলে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রশ্ন তুলেছে, ভারত পরে দাবি করেছিল ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই পেহেলগাম হামলার অভিযুক্তদের হত্যা করা হয়েছে।
কিন্তু তথ্যচিত্রে অপারেশন সিঁদুরকেই ওই হামলার প্রতিশোধ হিসেবে দেখানো হয়েছে, যা সময়ের হিসেবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মার্কা-ই-হক সংঘর্ষের সময় পাকিস্তান ভারতের আটটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করেছিল। এর জবাবে পাকিস্তান ‘অপারেশন বুনিয়ানুম মারসুস’ পরিচালনা করে এবং ২৬টি সামরিক স্থাপনায় সফল হামলা চালায়।
আইএসপিআর মনে করে, তথ্যচিত্রের বক্তব্যে ভারতের আধিপত্যের দাবিই বরং দুর্বল হয়ে পড়েছে। কারণ সেখানে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা পরোক্ষভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে যেকোনো উস্কানির কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এস এম/ ১৮ আগস্ট ২০২৬



