মায়ের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া ও সৎকার শেষে প্যারোলের মেয়াদ শেষ করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরেছেন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টা ৩ মিনিটের দিকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মা সন্ধ্যা রানী ধর মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
তিনি ক্যানসারসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে প্যারোলে মুক্তির জন্য তার পরিবারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক তাকে বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নের শ্রীশ্রী পুণ্ডরীক ধামে মায়ের শেষকৃত্য ও সৎকার অনুষ্ঠানে অংশ নেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
অনুষ্ঠান শেষে আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশে রওনা হন। পরে রাত ৮টা ৩ মিনিটের দিকে তিনি কারাগারে পৌঁছান। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তার যাতায়াত ও সৎকারে অংশ নেওয়ার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, রাত ৮টা থেকে সোয়া ৮টার মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে চট্টগ্রাম কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কোতোয়ালিী থানার একটি মামলায় হাজতি আসামি হিসেবে কারাবন্দি রয়েছেন।
এদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পারিবারিক নাম চন্দন কুমার ধর। ধর্মীয় দীক্ষা নেওয়ার পর তিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী নাম গ্রহণ করেন। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে আলোচনায় আসেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। ওই বছরের অক্টোবরে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালী থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। পরে ২৫ নভেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে তার সমর্থকেরা প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করেন। ওই সময় সংঘর্ষের মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণের অদূরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলাসহ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে বর্তমানে মোট আটটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় তিনি এখনও কারাবন্দি রয়েছেন।

