বাছাইপর্ব থেকে বাদ পড়ে টানা তিন বিশ্বকাপে খেলা হয়নি ইতালির। সাবেকদের বোর্ডে এবং কোচিং প্যানেলে এনে দলটির পূর্নগঠনের চেষ্টা চালালেও সেখানে ব্যর্থ হয় দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। এমনকি পেপ গার্দিওলা আজ্জুরিদের কোচ হওয়ার এতটাই কাছাকাছি ছিলেন, যে চাকরিটি নিয়ে আলোচনার সময় তিনি কাগজে সম্ভাব্য একাদশ আঁকা শুরু করেছিলেন। তাও হল না সে চুক্তি, কারণটা অবশ্য জানিয়েছেন পাওলো মালদিনি।
জুলাই মাসে ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) টেকনিক্যাল ডিরেক্টর হিসেবে নিযুক্ত হন মালদিনি। অল্প সময়ের জন্য ইতালীয় ফুটবলের পুনর্গঠনে সহায়তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তার হাতে। কিন্তু নতুন জাতীয় দলের কোচ খোঁজার প্রক্রিয়াকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে তিনি মাত্র ১৬ দিন পরেই উপদেষ্টা লিওনার্দোর সাথে পদত্যাগ করেন।
কিন্তু সেই স্বল্প সময়ে মালদিনি গার্দিওলা এবং কার্লো আনচেলোত্তিসহ বড় নামের কোচদের সাথে আলোচনা করেছিলেন। ইতালির এক গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে মালদিনি জানান, তিনি গার্দিওলার সাথে দেখা করতে বার্সেলোনা গিয়েছিলেন এবং ইতালি নিয়ে তার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে পুরো একটি দিন কাটিয়েছিলেন।
বলেছেন, ‘তিনিই সেই কোচ যিনি কারিগরি ও আক্রমণাত্মক খেলার সেরা প্রতিচ্ছবি। কিছু বন্ধুর মাধ্যমে তিনি একটি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। আমরা বার্সেলোনায় তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম, একসঙ্গে দুপুরের খাবার খেয়েছিলাম এবং পুরো একদিন ধরে কথা বলেছিলাম। সে খুব উচ্ছ্বসিত ছিলেন। সে রাজি হয়ে যাওয়ার খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল। এমনকি সে কাগজে লাইনআপ লেখাও শুরু করে দিয়েছিল।’
দায়িত্ব নেয়ার জন্য গার্দিওলা ২০ মিলিয়ন ইউরো দাবি করেছিলেন, এ ধরণের কিছু প্রতিবেদন গণমাধ্যমে সে সময় প্রকাশ হয়, তবে মালদিনি সে বিষয় নাকচ করে দেন। বরং তিনি জানান, আর্থিক কারণে চুক্তিতে কোনো বাধা আসেনি। ‘একদমই না। টাকা কখনোই কোনো সমস্যা ছিল না। পেপ আমাদের পরিষ্কারভাবে বলে দিয়েছেন আগের কোচের বেতনের চেয়ে আমাকে এক ইউরো কম দিলেও আমার কোনো সমস্যা নেই।’
মূলত ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্বে এক দশক কাটানোর পর গার্দিওলা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার একটি বিরতি প্রয়োজন । ‘ক্লান্তি আসল কারণ। প্রিমিয়ার লিগে ১০টি কঠিন বছর কাটিয়ে এসেছেন গার্দিওলা । তার পিঠের অস্ত্রোপচার হয়েছে। তিনি বিশ্রাম নিতে চান।’
টানা তিন বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে ব্যার্থ হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এর পরেই কোচ জেনারো গাত্তুসোর পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে দেশটির কিংবদন্তি মিডফিল্ডার আন্দ্রে পিরলোকে কোচের জন্য নিয়োগ দেয়ার খুব কাছাকাছি যায় দেশটির ফেডারেশন। সবকিছু প্রায় ঠিক, চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ২০৩১ সাল পর্যন্ত। হঠাৎ খবর, আজ্জুরিদের কোচের পদে নেই পিরলোর নাম। পিরলো কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়ার প্রক্রিয়া নাটকীয়ভাবে বাতিল হওয়ার পর রবার্তো মানচিনিকে পুনরায় ইতালির প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।






