যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন ন্যাশনাল পার্কে আকস্মিক বন্যায় ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রবল স্রোতে বড় বড় পাথর, ধাতব কাঠামোসহ বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে পার্কের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া কলোরাডো নদীতে পড়েছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা মানুষদের সরিয়ে নিতে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে অ্যারিজোনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে তারা। নিখোঁজ ব্যক্তি বা ওই এলাকায় থাকা কোনো হাইকার সম্পর্কে তথ্য থাকলে তা জানাতেও জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে কলোরাডো নদীতে গিয়ে মেশা ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। পানির প্রবল স্রোতে খালের ওপর থাকা কয়েকটি পদচারী সেতু ভেসে যায় এবং এলাকার ভূপ্রকৃতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, বন্যার পানিতে খালের প্রশস্ততা বেড়ে গেছে। কোথাও কোথাও নতুন জলপ্রপাতের মতো তীব্র স্রোতও তৈরি হয়েছে।
ইউটা স্টেট ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কলোরাডো রিভার স্টাডিজের পরিচালক জ্যাক শ্মিট বলেন, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের ভূপ্রকৃতি কতটা গতিশীল ও সক্রিয়, এই ঘটনা তা স্মরণ করিয়ে দেয়।
যেভাবে শুরু বন্যা
বন্যায় বেঁচে যাওয়া এরিকা ভিওলা বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, শনিবার বিকেলে বৃষ্টি শুরু হওয়ার সময় তিনি ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে ছিলেন। তার সঙ্গে আরও প্রায় ৫০ জন হাইকার ছিলেন।
তারা দেখতে পান, খালের পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে এবং স্রোতের সঙ্গে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসছে। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবনের মতো কাঠামোও ছিল বলে জানান তিনি।
পরে হেলিকপ্টারে করে ওই দলটিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এতে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই তার ভ্রমণ শেষ হয়ে যায়।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের ফ্ল্যাগস্টাফ কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ জাস্টিন জোহেনড্রো জানান, পাথুরে ও খাড়া ভূপ্রকৃতির ওই এলাকায় প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে আধা ইঞ্চি থেকে এক ইঞ্চি (১ থেকে ২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার) বৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, বৃষ্টির বেশিরভাগ পানি তাৎক্ষণিকভাবে নিচের দিকে নেমে গেছে।
তিনি জানান, গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের উত্তর পাশে এই বন্যা হয়েছে। উত্তর রিম থেকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক প্রায় ১ হাজার ৮২৮ মিটার নিচে নেমে কলোরাডো নদীতে গিয়ে মিশেছে।
ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র্যাঞ্চ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক ক্যান্টিন ও থাকার জায়গা থাকা ফ্যান্টম র্যাঞ্চ নদীপথে যাতায়াতকারী রাফটারদের ওঠানামার একটি পরিচিত স্থান।
আরও কয়েকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এখন পর্যন্ত বন্যায় কোনো আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) পর্যন্ত আরও বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাহাড়ি পাথর ধসে পড়া এবং ট্রেইল ও নদীর গতিপথে পরিবর্তন হতে পারে।
ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনা করতে রোববারও ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড, ফ্যান্টম র্যাঞ্চ এবং নর্থ কাইবাব ট্রেইলের কিছু অংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীতে রাফটিং কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

