রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদকে মনোনীত করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার (৯ অগাস্ট) ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠকে অলি আহমেদের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
এর আগে শনিবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। দলীয় আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এরপর রোববার বিরোধীদলের সরকারি বাসভবনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমেদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।
তবে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির জয় নিশ্চিত। ৩৪৯ আসনের সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ স্বতন্ত্র এমপির সংখ্যা ৮। ইসলামী আন্দোলন, বিজেপি, গণঅধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে এমপি রয়েছেন। বাকি ২৪৭ জন এমপি বিএনপির। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জিততে প্রয়োজন ১৭৫ ভোট।
এ অবস্থায় জামায়াত কেন প্রার্থী দিয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ বিরোধী দলের অধিকার। গণতন্ত্রে জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় হলো অধিকার চর্চা। বিরোধী দল কোনো কিছুতেই সরকারকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছাড় দেবে না। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। সেবার তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগও প্রার্থী দিয়েছিল। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর এমপিদের সমর্থনে ১৭২ ভোট পেয়ে আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। জাতীয় পার্টির ৩৫ জন এমপি ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন।
সেই নির্বাচনের পর সংসদীয় গণতন্ত্রের সময়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আর ভোট হওয়ার ঘটনা ঘটেনি। এবার ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমেদের মনোনয়ন দেওয়ায় ২০ আগস্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে।






