৭. সৃজনশীল চর্চা: গান, আঁকা ও নতুন কিছু তৈরি
‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী!’
সৃজনশীল কাজ মানুষকে নতুনভাবে ভাবতে শেখায়। গান গাওয়া, ছবি আঁকা, গল্প লেখা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা নিজের হাতে কোনো কিছু তৈরি করার মধ্য দিয়ে চিন্তার নতুন পথ খুলে যেতে পারে। আলবার্ট আইনস্টাইন বেহালা বাজাতে পছন্দ করতেন। বিজ্ঞানচর্চার পাশাপাশি সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহের কথাও জানা যায়। তোমারও হয়তো ছবি আঁকতে, গান গাইতে কিংবা কোনো যন্ত্র খুলে তার ভেতরের কলকবজা দেখতে ভালো লাগে। নিজের আগ্রহের কাজটি চর্চা করো। সবকিছুতেই সেরা হতে হবে না; শেখার আনন্দটাই আসল।
৮. নিজের মতো করে চিন্তা করা
দার্শনিক ফ্রান্সিস বেকনের একটি উক্তি হলো, ‘একটি বিচক্ষণ প্রশ্ন হলো প্রজ্ঞার অর্ধেক।’
অন্যের কথা শুনে সবকিছু মেনে নেওয়ার আগে নিজে ভাবতে শেখো। কোনো তথ্য শুনলে তার সত্যতা যাচাই করো, যুক্তি খোঁজো এবং ভিন্নমত শোনার চেষ্টা করো। আইনস্টাইনের মতো বিজ্ঞানীরা প্রচলিত ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং প্রকৃতির নিয়ম বোঝার জন্য নতুনভাবে চিন্তা করেছেন। তবে নিজের মত ধরে রাখার অর্থ এই নয় যে অন্যের কথা শুনবে না। বরং যুক্তি দিয়ে বিচার করা, ভুল হলে তা স্বীকার করা এবং নতুন তথ্য থেকে শেখার মানসিকতাই স্বাধীন চিন্তার পরিচয়।
৯. সময়ের মূল্য বোঝা ও ধারাবাহিকতা
স্টিভ জবসের নামে প্রচলিত একটি উক্তি হলো, ‘সময় হলো মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।’
সময়কে কাজে লাগানোর মানে এই নয় যে প্রতিটি মুহূর্ত পড়াশোনা বা কাজ করতে হবে। খেলাধুলা, বিশ্রাম ও আনন্দেরও প্রয়োজন আছে। তবে কোনো কাজ কখন করবে, তার পরিকল্পনা থাকলে কাজ গুছিয়ে করা সহজ হয়। সফল মানুষদের অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিষয়ে মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছেন। তুমিও পড়াশোনা, খেলাধুলা ও নিজের পছন্দের কাজের জন্য আলাদা সময় রাখতে পারো। প্রতিদিন অল্প অল্প করে এগিয়ে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলো। ধারাবাহিকতা অনেক বড় লক্ষ্য পূরণের পথ সহজ করতে পারে।




