
🎧অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে ফরিদপুর, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে স্থানীয় জনপ্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে প্রচারণামূলক কর্মসূচি নেওয়া হবে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করে পরিকল্পনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে ইতালির রাষ্ট্রদূত গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। বিশেষ করে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সময় অনেক বাংলাদেশি মারা যাওয়ার বিষয়টি বৈঠকে উঠে এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের মানুষ। রাষ্ট্রদূত ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও মাদারীপুরের নাম উল্লেখ করে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ জন্য ওই অঞ্চলের মানুষকে অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়া থেকে বিরত রাখতে এবং বৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে প্রচারণামূলক কর্মশালা আয়োজন করা হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী নিজেও এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকবেন বলে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।
মীর শাহে আলম বলেন, ইতালি প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক বৈধ কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে। এই বৈধ সুযোগ যেন বাংলাদেশের মানুষ কাজে লাগাতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের জনশক্তির দক্ষতা বাড়াতে তৃতীয় ভাষা হিসেবে ইতালীয় ভাষা শেখানোর বিষয়ে ইতালির সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতালি সরকার এতে সম্মতি দিয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠিয়ে স্থানীয় প্রশিক্ষক তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মিলান শহরের খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তা কার্যক্রমের আদলে বাংলাদেশের একটি শহরকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। এ ক্ষেত্রে খুলনা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মিলান শহর যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইতালি বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর ইতালিতে প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের পোশাক ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করে। বিপরীতে ইতালি থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের যন্ত্রপাতি আমদানি করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশে মোট বার্ষিক রেমিট্যান্সের প্রায় ৫ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২ বিলিয়ন ইউরো ইতালি থেকে আসে বলেও জানান তিনি।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে মালয়েশিয়াকে প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত এটুকুই অগ্রগতি হয়েছে।
বৈঠক শেষে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ফরিদপুর, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর থেকে অনেক মানুষ অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। অবৈধভাবে ইতালি যাওয়া বাংলাদেশ ও ইতালি উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

