বৈশ্বিক বাজারে সার ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কাটানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি সহায়তা হিসেবে প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা) দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। শুক্রবার দুটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এ অর্থায়নের অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা।
অনুমোদিত অর্থের মধ্যে ‘ইমার্জেন্সি সাপোর্ট ফর ফুড সিকিউরিটি প্রজেক্ট’–এর আওতায় ৩০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ দিয়ে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমন মৌসুম এবং ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বোরো মৌসুমের জন্য প্রয়োজনীয় সার আমদানি করা হবে।
বাংলাদেশে মোট সারের চাহিদার ৮৫ শতাংশের বেশি আমদানিনির্ভর। এ প্রকল্পের আওতায় ৬ লাখ মেট্রিক টন সার আমদানির অর্থায়ন করা হবে, যার অর্ধেকই ইউরিয়া। এর ফলে প্রায় ১৪ লাখ হেক্টর জমিতে ক্ষুদ্র কৃষকদের ধান উৎপাদন অব্যাহত রাখতে সহায়তা মিলবে।
বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে খাদ্য, সার ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণে চাপ তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এতে ক্ষুদ্র কৃষক এবং দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ধান উৎপাদনের জন্য সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পরিবার, কর্মসংস্থান ও জরুরি সেবা সচল রাখতে বিশ্বব্যাংক এ সহায়তা দিচ্ছে।
প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার ও বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সুলেমান কৌলিবালি বলেন, দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ৯০ শতাংশই আমন ও বোরো মৌসুমে হয়। আবার দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ফলে সারের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা শুধু খাদ্যনিরাপত্তাই নয়, কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য পরিস্থিতির ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
এদিকে ‘কন্টিনজেন্ট ইমার্জেন্সি রেসপন্স প্রজেক্ট’–এর আওতায় ৭১ কোটি ৩০ লাখ ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সংকটকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নগদ সহায়তা ও জীবিকা পুনরুদ্ধারে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, বিদ্যুৎ ও পানির মতো জরুরি সেবা সচল রাখতে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের প্রয়োজনীয় ব্যয়ও এ তহবিল থেকে মেটানো হবে। প্রকল্পটির অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।
বিশ্বব্যাংকের লিড ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট স্পেশালিস্ট ও প্রকল্পটির টাস্ক টিম লিডার লেসলি জিন ইউ কর্ডেরো বলেন, চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের অব্যবহৃত অর্থ পুনর্বিন্যাস করে এ জরুরি তহবিল গঠন করা হয়েছে। এর ফলে সংকটের সময়ে দ্রুত অর্থ ছাড় দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে মানুষ, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানকে অর্থনৈতিক ধাক্কা মোকাবিলায় সহায়তা করবে এই তহবিল।





