প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান বলেছেন, এই সরকারের ফোকাস হচ্ছে ক্রিয়েটিভ কাজের মনিটাইজেশন। শখে অভিনয় করবো, শখে খেলবো এটা হতে পারে না। প্রত্যেক কাজকে পেশা হিসেবে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যখন আমি মেডিকেলের স্টুডেন্ট ছিলাম দেখেছি তখন আমাদের ফিল্ম ব্যবসা খুব ভালো ছিল। নায়ক নায়িকা হেঁটে যাবে দেখার জন্য এফডিসি গেটে ভিড় হতো। কিন্তু এখন ফিল্মকে কেন আমরা আরও বেশি ব্যবসায়িকভাবে সাকসেসফুল করতে পারছি না উনি (প্রধানমন্ত্রী) জানতে চেয়েছেন।
সম্প্রতি এফডিসি পরিদর্শনে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহিদ উর রহমান। এসে তিনি এফডিসির ঘুরে সমস্যাগুলোর কথা শোনেন। এসময় এফডিসির এমডি, প্রযোজক নেতা, পরিচালক সমিতি ও শিল্পী সমিতির সদস্যের সঙ্গে আলোচনায় করার সময় এই কথাগুলো বলেন তিনি।
জাহিদ উর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি প্ল্যান চেয়েছেন। তাকে প্ল্যানগুলো জানাবো। কথাটা বাহুল্য মনে হতে পারে কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে বলছি, শিল্প সংস্কৃতির প্রতি মনোযোগী এমন প্রধানমন্ত্রী আগে বাংলাদেশে আসেনি। আমি তথ্য ও সংস্কৃতি- দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত। সেই জায়গা থেকে দেখছি উনি এই দুই মন্ত্রণালয়ের সাথে বেশি বসে আলোচনা করছেন।
সেখানে উপস্থিত থেকে সুড়ঙ্গ, তুফান, তাণ্ডব-এর আলোচিত সিনেমার প্রযোজক শাহরিয়ার শাকিল সিনেমার প্রধান সমস্যাগুলো তুলে ধরেন।
জাহিদ উর রহমানকে উদ্দেশ্য করে শাহরিয়ার শাকিল বলেন, ই-টিকেটিং না থাকায় সিঙ্গেল স্ক্রিনে ক্যাশ টাকায় টিকিট সেল হলেও যথাযথ হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। কত টিকিট বিক্রি হচ্ছে এটা দেখার জন্য হলে হলে আমাদের প্রতিনিধি পাঠাতে হচ্ছে। যাকে পাঠানো হচ্ছে সে আবার দুর্নীতির আশ্রয় নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যদি কিছু সিনেমা হল নির্মাণ, ই-টিকেটিং, সেন্ট্রাল সার্ভার এবং পাইরেসি ঠেকানোর উদ্যোগটা সরকারীভাবে নেয়া হয় তাহলে আমাদের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকার হবে। আমরা আসলে চাচ্ছি, সরকার শুধু আমাদের জন্য বিজনেস মডেলটা ঠিক করে দিক। এগুলো করতে সরকারের অনেক বেশি টাকার প্রয়োজন হবে না।
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড-এর প্রয়োগ নিয়েও এসময় প্রশ্ন তুলেন শাকিল। বলেন, সেন্সর বোর্ড এখন সার্টিফিকেশন বোর্ড হয়েছে, তবু আমরা প্রযোজকরা যখন সিনেমা নিয়ে যাচ্ছি- তখন বিজিবল কোনো পার্থক্য ফিল করি না। ফিল্ম গ্রেডিংয়ের সঠিক প্রয়োগ হলে সিনেমা নিয়ে গিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছ থেকে কেন আমাদের এটা কেন এডাল্ট, এটা এমন হলো কেন- এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে!
জবাবে জাহিদ উর রহমান বলেন, ব্যক্তিগতভাবে ফিল্মে সেন্সর কনসেপ্টটা আমি বিশ্বাস করি না। ফিল্মে সার্টিফিকেশন আছে, যে কেউ চিন্তা করে যে কেনো ক্যাটাগরিতে সিনেমা বানাতে পারেন। কিন্তু একটা জিনিস হয়তো সার্টিফিকেশন বোর্ডকে দেখতে হবে যে- সিনেমাটি সমাজে বা রাষ্ট্রে মারাত্মক কোনো ঘৃণা ছড়ায় কিনা। সিনেমায় এমন কিছু আছে কিনা যা সমাজে অস্থিরতা তৈরী করতে পারে, যার ফলে রায়ট সৃষ্টি হতে পারে! এর বাইরে সার্টিফিকেশন বোর্ডের কাজ হলো সিনেমাটি গ্রেড দেয়া। নীতিমালা অনুযায়ি যেটা যে গ্রেডে পড়ে, সেটা দেয়া।
এফডিসির এমডি মাসুমা রহমান তানি বলেন, আমাদের জন্য অল্প কিছু উদ্যোগ নিলে সিনেমার আসল সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে। সেইসাথে পলিসিগুলো কিছু পরিবর্তন এনে দিলে হবে। এগুলো করলে সিনেমা নির্মাণ বাড়বে, লগ্নীকারক বাঁচবে সবদিক থেকে লাভ হবে। সবচেয়ে আগে ই-টিকেটিং হলে ১০০ টাকায় ২০ টাকা সরকার পাবে, ৪০ টাকা সিনেমা হল পাবে এবং বাকি ৪০ টাকা প্রযোজক পাবে। লাভ সবার হবে।



