
ছবি: সংগৃহীত
সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনা নিশ্চিত করতে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৭৮ রপ্তানিকারকের অনুমোদিত রপ্তানির পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সুগন্ধি চালের সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানিমূল্য প্রতি কেজি ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে, ২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, ৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে, ৪. প্রতিটি চালান জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে, ৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে, ৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না, ৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন এফওবি রপ্তানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, ৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য। সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না, ৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে এবং ১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে পিআরসি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে ৩০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পেরেছে।
সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
এ কারণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা অর্ধেক করার পাশাপাশি রপ্তানির পরিমাণ, মূল্য, নথিপত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশে ফেরত আনার বিষয়ে কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন অনুমোদন নিতে হলে আগের রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ হিসাবও দিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে। সরকারের লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়, বরং খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
