স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটকের পর সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে, মামলায় বৈষম্য?

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আটকের পর সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে, মামলায় বৈষম্য?

সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা জসিম উদ্দিনকে আটকের পর সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ১৫১ ধারায় আদালতে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সদর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ বলছে, তাঁকে আটকের সময় তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নওখন্ডা (খোদাহাফেজ) এলাকা থেকে জসিম উদ্দিনকে আটক করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে তাঁকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে পাঠায় সদর থানা পুলিশ।

জসিম উদ্দিন নওখন্ডা এলাকার আব্দুর রশীদ ভেটকুর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল বলেও স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন।

এদিকে জসিম উদ্দিনের আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কিছু ছবি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। ছবিগুলোতে তাঁকে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম জাহিদ, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুদেব কুমার সাহা এবং জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুবকর সিদ্দিক খান তুষারের সঙ্গে বিভিন্ন দলীয় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জসিম উদ্দিন বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সঙ্গে চলাফেরা শুরু করেন। এমনকি গত নির্বাচনে বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তাঁকে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালাতেও দেখা গেছে বলে তাঁরা দাবি করেন।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ওই রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে বিএনপির কিছু নেতার সুপারিশে তাঁকে বড় কোনো মামলায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে সহজে জামিনযোগ্য ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘জসিম উদ্দিনকে আটকের পর থানায় আনা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে গত ২৩ আগস্ট মানিকগঞ্জ সদর থানায় চুরির অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রঞ্জন সরকার নামে এক যুবককে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ ওঠে। চুরির অভিযোগকারী সাজ্জাদ হোসেন জনি দাবি করেন, রঞ্জনকে পরিকল্পিতভাবে অন্য মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

জসিম উদ্দিনকে আদালতে পাঠানোর বিষয়ে জানতে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

বিভিন্ন ব্যক্তিকে আটকের পর মামলার ধরণ ও ধারায় বৈষম্যের কারণ জানতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সালাউদ্দিনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘জসিম উদ্দিন নামে একজনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তবে এই জসিম উদ্দিনকে আটকের পর তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

মামলার ধরণ ও ধারায় বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলা, রাজনৈতিক অপতৎপরতা, নাশকতা বা অন্য কোনো অপরাধের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।’