জীবন নামের যাত্রায় সময় কখনও কখনও প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠে। এমন কিছুর মুখোমুখি করে ফেলে মানুষকে, যা হয়তো তার কল্পনাতেও ছিল না। এমন অনেক কিছু মানুষকে করতে হয়, যা তিনি ভাবেননি কখনও। এমন আবেদন নিয়ে কাজী আসাদ নির্মাণ করেছেন ওয়েব ফিল্ম
আগামি ২১ জুন (২০ জনু রাত ১২টা) চরকিতে মুক্তি পাবে ‘লাইফলাইন’। গল্প নিয়ে নির্মাতা কাজী আসাদ জানান, ভালোবাসার টানে মানুষ কত দূর যায়? আর কত কিছু হারানোর ঝুঁকি নিতে পারে? শহুরে মেয়ে অনন্যার দুর্গম যাত্রা কেন এবং এর শেষ কোথায়? এসব উত্তরের মধ্যে দিয়ে গভীর কিছু অনুভূতির কথা বলার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিদ্যা সিনহা মীম।
এছাড়াও অভিনয় করেছেন রেজওয়ান পারভেজ, গাজী রাকায়েত, আ খ ম হাসান, খায়রুল আলম সবুজ, নাজনীন হাসান চুমকি, আনিসা নূর আয়াত, ফাতেমাতুজ জোহরা ইভা প্রমুখ।
নির্মাতা কাজী আসাদ বলেন, ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’– এর পর আমি চাচ্ছিলাম ব্যক্তিগতভাবে নতুন কিছু করতে। ড্রামা আমার খুব পছন্দের একটা জনরা। সেই জায়গা থেকে ড্রামা বা সোশ্যাল ড্রামা নিয়ে কাজ করা। গল্পের আইডিয়াটা শোনার পর মনে হয়েছিল এটা সিনেমার গল্প হতে পারে। সোশ্যাল ড্রামা ঘরানার এই গল্পটার মধ্যে সোশ্যাল অ্যাওয়ারনেসও আছে, ইমোশন আছে, এই বিষয়টা ফিল্ম মেকার হিসেবে আমার খুব ভালো লাগলো। এই গল্পটার মধ্যে সচেতনভাবে আমরা এমন কিছু বলতে চেয়েছি যেটা দর্শকের সঙ্গে সাথে নির্মাতার এক ধরনের যোগাযোগ তৈরি করে।
গল্পের নাম ‘লাইফলাইফ’ হওয়ার কারণ জানতে চাইলে কাজী আসাদ বলেন, “স্টোরি ফিলোসফিটা এখন না বলাই ভালো। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে অডিয়েন্স খুব হালকা মাথায় একদম কোন প্রিপারেশন ছাড়াই সিনেমাটা দেখতে বসলে খুবই সহজ সুন্দর গল্প দেখতে পারবে। ওটিটি-র কনটেন্ট ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় কিছু অংশ করে দুই-তিনবারে দেখি। দর্শকদের কাছে অনুরোধ থাকবে, তাঁরা যেন একটু সময় নিয়ে একবারে ছবিটা দেখে ফেলেন। তাহলে ফিল্মটার আসল ফিলিংটা দর্শকরা সম্ভবত পাবেন বলে আমার বিশ্বাস।”
১০ জুন রাতে প্রকাশ পায় ‘লাইফলাইন’ ফিল্মের ট্রেলার। যেখানে দেখা যাচ্ছে বিদ্যা সিনহা মিম কাউকে খুঁজছেন। তার এই যাত্রায় সহযোগী রিজওয়ান পারভেজ। যিনি কঠিন রাস্তায় বাইকে করে মিমকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছেন এবং দুজন মিলে ঝগড়াও করছেন।
অভিনেতা রিজওয়ান পারভেজ জানান, ‘লাইফলাইন’ দায়িত্ববোধের গল্প, ভালোবাসার গল্প, অনুভূতির গল্প। ভালোবাসার অনেক রূপ থাকে, এখানে একটা রূপ দেখানো হয়েছে। তিনি মনে করেন ফিল্মটি দর্শকদের নতুন বোধের জন্ম দেবে। অভিনেতা বলেন, “আমার চরিত্রের নাম কোরবান। এ চরিত্রটির বাইরে গরম, ভেতরে নরম। চরত্রটির অনুভূতিগুলো দর্শকরা সহজেই ধরতে পারবেন।”
কঠিন ছিল এমন রাস্তায় মোটর সাইকেল চালানো, জানান রিজওয়ান। বলেন,“ক্ষেতের আইল দিয়ে মোটরসাইকেল চালাতে হয়েছে। এটা এমনিতেই কঠিন। সেটাও সমস্যা হতো না, কিন্তু আমার সঙ্গে মিম (বিদ্যা সিনহা মিম) ছিল। এটা একটা দায়িত্ব যেন তিনি ঠিক থাকেন। মোটরসাইকেল নিয়ে পড়ে গিয়ে মিম যদি আহত হতেন, সেটা খুব কষ্টের হতো আমার জন্য বা যে কারও জন্যই।”
এ কথায় সায় দেন বিদ্যা সিনহা মিম। জানান, একে তো মাটির উঁচু–নিচু রাস্তা, তার ওপর প্রচণ্ড গরম। একটা–দুইটা দৃশ্য করেই সবার অবস্থা খারাপ হয়ে যেত বলে জানান মিম। বলেন,“আমাদের অভিনয়শিল্পীদের কী যেন একটা আছে। দেখা গেছে অল্প একটু কাজ করে সবাই কাহিল হয়েছি, কিন্তু যখন দেখেছি দৃশ্যটা ভালো হয়েছে, তখন আবার পুরোদমে আবার কাজ শুরু করেছি।”
‘লাইফলাইন’ নিয়ে বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, “ফিল্মটির থিমেটিক পোস্টারটা যদি খেয়াল করেন, দেখবেন সেখানে বালু ঘরির মধ্যে অনন্যা চরিত্রটি বসে আছে। অর্থাৎ চরিত্রটি একটা সময়ের মধ্যে আছে বা একটা সময়ের মুখোমুখি যেটা সে ফেস করে এগিয়ে যেতে পারবে কিংবা পারবে না। সেটা জানতে হলে, সিনেমা দেখতে হবে।”
‘লাইফলাইন’ ফিল্ম নিয়ে চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, “চরকি সবসময় দর্শকদের নতুন কিছু দিতে চেয়েছে, ‘লাইফলাইন’ সেই চেষ্টারই অংশ। এই গল্পে একটা নতুনত্ব আছে, চরিত্র এবং তাদের আচরণের মধ্যে আমাদের নিজস্বতা আছে। এই অরিজিনালিটিই আমাদের শক্তি বলে মনে করি।”
‘লাইফলাইন’–এর মাধ্যমে বিদ্যা সিনহা মীম প্রথমবারের মতো কাজ করলেন চরকির কোনো প্রজেক্টে। নির্মাতা কাজী আসাদ এর আগে চরকির জন্য অরিজিনাল সিরিজ ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’ নির্মাণ করেছিলেন। এবার তিনি নার্মাণ করলেন অরিজিনাল ফিল্ম ‘লাইফলাইন’। এর গল্প লিখেছেন মাহমুদুল হাসান টিপু, কাজী আসাদ, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন আসাদুজ্জামান আবীর ও কাজী আসাদ।






