
তেল আবিব, ০৮ নভেম্বর – ইসরায়েলের রাজনীতিতে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় ওলটপালট! প্রায় তিন দশক ধরে দেশটির রাজপথ ও ক্ষমতার কেন্দ্র দাপিয়ে বেড়ানো এবং ১৯ বছরের দীর্ঘ শাসনের কারিগর বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে একপাশে ঠেলে নতুন সরকার গঠনের সবুজ সংকেত পেয়েছেন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট (Gadi Eisenkot)। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ (Isaac Herzog) আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক এই সেনাপ্রধান ও ‘ইয়াশার’ (Yashar) পার্টির প্রধানের হাতেই তুলে দিচ্ছেন নতুন সরকার গড়ার ম্যান্ডেট। প্রেসিডেন্ট হারজগের এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই তোলপাড় শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে।
নেসেটে সমীকরণ বদল: নেপথ্যে ১৯ আসনের ‘আরব কার্ড’
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে ১২০টি আসনের বিপরীতে কোনো একক দল বা জোটই সরকার গড়ার জাদুকরী সংখ্যা ‘৬১’ ছুঁতে পারেনি।
প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর কট্টর ডানপন্থী ও ধর্মীয় জোট ৫৩টি আসন পেয়ে এগিয়ে ছিল এবং আইজেনকটের চার দলীয় জোট পেয়েছিল ৪৮টি আসন। কিন্তু ক্ষমতার পাল্লা এক নিমেষে ঘুরে যায় রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়ে চমক দেখানো ‘আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর’ হস্তক্ষেপে। যদিও আইজেনকট আগেভাগেই জানিয়ে রেখেছিলেন আরব দলগুলোকে নিয়ে তিনি প্রত্যক্ষ জোট সরকার গড়বেন না, তবে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সামনে আইজেনকটকে সমর্থন জানানোর ঘোষণা দেয় তারা। ফলে নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬ জন আইনপ্রণেতার সমর্থনের বিপরীতে আইজেনকটের পাল্লায় জমা পড়ে সর্বমোট ৬৭ জন সদস্যের সমর্থন।
২৮ দিনের কঠিন পরীক্ষা: সামনে দর-কষাকষির মহড়া
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আইজেনকট নতুন জোট সরকার পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন (যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো সম্ভব)। এই মেয়াদের ভেতরেই বিভিন্ন মতাদর্শের দলগুলোর সঙ্গে মন্ত্রিত্ব বণ্টন ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে তাঁকে।
আইজেনকট যদি এই সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো আইনপ্রণেতাকে সুযোগ দেবেন। আর সব পথ রুদ্ধ হয়ে গেলে নেসেট বিলুপ্ত করে ৯০ দিনের মধ্যে আবারও দিতে হবে নতুন নির্বাচন। সে ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান হিসেবে থেকে যাবেন নেতানিয়াহুই।
নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সাম্রাজ্যে বড় আঘাত
সব সমীকরণ পেরিয়ে প্রেসিডেন্ট হারজগের এই সিদ্ধান্তকে নেতানিয়াহুর বর্ণাঢ্য ও বিতর্কিত রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মারপ্যাঁচে কোণঠাসা নেতানিয়াহু কি পারবেন শেষ মুহূর্তে কোনো অলৌকিক চাল চালতে, নাকি গাদি আইজেনকটের হাত ধরেই শুরু হতে যাচ্ছে ইসরায়েলের নতুন অধ্যায়—এখন সেদিকেই চোখ পুরো বিশ্বরাজনীতির!
এনএন/ ০৮ নভেম্বর ২০২৬




