৪০ বছর বয়সের পর পুরুষদের শরীরে হরমোন, মেটাবলিজম এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কার্যকলাপে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এই বয়সে অনেক রোগ কোনো লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে, যা পরবর্তী সময়ে বড় আকার ধারণ করে। নিচে ঝুঁকিগুলো এবং এ থেকে বাঁচার উপায় বিস্তারিত আলোচনা করে হলো।
প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকিগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ
• হৃদরোগ ও রক্তনালীর সমস্যা :
৪০ বছরের পর ধমনী শক্ত ও সংকীর্ণ হতে শুরু করে। রক্তে ‘খারাপ কোলেস্টেরল’ (এলডিএল) এবং ট্রাইগ্লিসারাইড জমার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
• মেটাবলিক পরিবর্তন ও টাইপ-২ ডায়াবেটিস:
এই বয়সে শরীরের মেটাবলিজম (বিপাক প্রক্রিয়া) ধীর হয়ে যায়। ফলে পেটে মেদ বা চর্বি জমে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হওয়ার কারণে শরীর সঠিকভাবে শর্করা রিডার ব্যবহার করতে পারে না, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রধান কারণ।
• প্রস্টেটের সমস্যা:
৪০ বছরের পর থেকে পুরুষদের প্রস্টেট গ্রন্থি আকারে বড় হতে থাকে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিএইচপি (বেনাইন প্রস্ট্যাটিক হাইপারপ্লাসিয়া) বলা হয়। এর কারণে ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া (বিশেষ করে রাতে), প্রস্রাবের গতি কমে যাওয়া বা আটকে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়। এছাড়া এই বয়স থেকে প্রস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকিও ক্রমান্বয়ে বাড়ে।
• হরমোনের ক্ষরণ হ্রাস:
পুরুষ হরমোন বা টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতি বছর প্রায় ১% হারে কমতে থাকে। এর ফলে ক্লান্তি, মাংসপেশি কমে যাওয়া, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগের অভাব এবং যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়ার (ইরেকটাইল ডিসফাংশন) মতো সমস্যা দেখা দেয়।
• হাড় ও জয়েন্টের ক্ষয়:
হাড়ের ঘনত্ব কমতে থাকায় অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা জয়েন্টের ব্যথা শুরু হয়। বিশেষ করে হাঁটু, কোমর ও ঘাড়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা এই বয়সের সাধারণ সমস্যা।
কোন কোন পরীক্ষা করা জরুরি?
৪০ পার হওয়ার পর লক্ষণ না থাকলেও বছরে অন্তত একবার নিচের স্ক্রিনিং পরীক্ষাগুলো করানো উচিত:
পরীক্ষার নাম কেন করবেন? কতদিন পর পর?
রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার) হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ সনাক্ত করতে বছরে অন্তত ১ বার লিপিড প্রোফাইল (লিপিড প্রোফাইল), রক্তে কোলেস্টেরল ও ফ্যাটের মাত্রা দেখতে বছরে ১ বার (ঝুঁকি থাকলে ঘন ঘন) ফাস্টিং সুগার ও এইচবিএ১সি ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে। বছরে ১ বার পিএসএ (প্রস্টেট স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন) প্রস্টেটের স্বাস্থ্য ও ক্যানসারের ঝুঁকি বুঝতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, লিভার ও কিডনি ফাংশন (এলএফটি, ক্র) ফ্যাটি লিভার বা কিডনির কার্যকারিতা যাচাই করতে বছরে ১ বার।
সুস্থ থাকার জন্য জীবনযাত্রার পরিবর্তন
• খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন: খাবারে লবণের পরিমাণ কমান (রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে)। লাল মাংস (গরু, খাসি), ভাজাপোড়া এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার কমিয়ে প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার এবং ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন সামুদ্রিক মাছ) যোগ করুন।
• শারীরিক সক্রিয়তা: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি ধরনের ব্যায়াম (যেমন: দ্রুত হাঁটা, সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো) করুন। এটি ওজন ঠিক রাখার পাশাপাশি টেস্টোস্টেরন হরমোন বাড়াতে সাহায্য করে।
• পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ মুক্ত থাকা: দৈনিক ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম জরুরি। যোগব্যায়াম, মেডিটেশন বা পছন্দের কাজের মাধ্যমে কর্মজীবনের মানসিক চাপ (ওয়ার্ক স্ট্রেস) নিয়ন্ত্রণে রাখুন।



