৭ মিনিটের ঝড়, আরও একবার প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখে ফাইনালে আর্জেন্টিনা | চ্যানেল আই অনলাইন

৭ মিনিটের ঝড়, আরও একবার প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখে ফাইনালে আর্জেন্টিনা | চ্যানেল আই অনলাইন

আরও একবার প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখল আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে ১৪ মিনিটের ঝড়ে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১ গোলে পিছিয়ে পড়ে ৭ মিনিটের ঝড়ে প্রত্যাবর্তন করেছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। লিওনেল মেসির জোড়া অ্যাস্টিস্টে এনজো ফের্নান্দেজ ও লৌতারো মার্টিনেজের গোলে ২-১ গোলে জিতে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালের টিকিট কেটেছে গতআসরের চ্যাম্পিয়নরা।

আগামী ১৯ জুন বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপা মহারণে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে স্পেন।

মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথমার্ধ যেন পরিণত হয়েছিল শারীরিক লড়াইয়ের মহড়ায়। মাঠের লড়াইয়ে কোনো দলই গোলের সুযোগ তৈরি করতে না পারলেও প্রথমার্ধে দেখা গেছে ফাউলের ছড়াছড়ি। অবশ্য বল দখলে অবশ্য আধিপত্য দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। ৫৫ শতাংশ বল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে আলবিসেলেস্তেরা। তবে আক্রমণভাগে ছিল না কোনো নৈপুণ্য, একই অবস্থা ইংলিশদেরও। গোলশূন্য প্রথমার্ধে লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনরা কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি।

প্রথমার্ধ শেষে দুই দল মোট ১৯টি ফাউল করেছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, বাকি ৭টি ইংল্যান্ডের। তবে রেফারি বেশ সংযত ছিলেন। মাত্র দুজনকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন এবং আর্জেন্টিনার লিসান্দো মার্টিনেজ হলুদে কার্ড দেখেন।

৩৫ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ইংল্যান্ডের ফ্রি কিক ঠেকাতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। দুই মিনিট পর ইংল্যান্ডের ফাইনাল থার্ডে তিন চারজন খেলোয়াড়ের বাধার মুখে পড়েন মেসি। এলিয়ট অ্যান্ডারসন তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রি কিক থেকে মেসির পাস ধরে ইংল্যান্ডের বক্স থেকে ফিরে আসা বলে শট নেন এনজো ফের্নান্দেজ। ৩৯ মিনিটে নেয়া তার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর মরগান রজার্সকে পেছন থেকে টেনে ধরে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে কোনো দলই সুযোগ তৈরি করতে না পারায় দুদল বিরতিতে গেছে গোলশূন্য সমতায়।

বিরতির পর ৪৭ মিনিটে সুযোগ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। জেড স্পেন্সকে ফাঁকি দিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে শট নেন নেন আলভারেজ। ইংল্যান্ড গোলরক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে ফের শট নেন আলভারেজ, তবে এবার গিয়ে লাগে সাইড নেটে। সুযোগ হারায় আর্জেন্টিনা।

৫৫ মিনিটে লিড পায় ইংল্যান্ড। ডান প্রান্ত থেকে মরগান রজার্সের ক্রসে বল পেয়ে আর্জেন্টিনা জালে বল জড়ান অ্যান্থনি গর্ডন। পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৫৮ মিনিটে দারুণ সুযোগও তৈরি করে। জুলিয়ানো সিমিওনে একেবারে ফাঁকায় ছিলেন। কিন্তু নিখুঁত ট্যাকল করে বিপদ সামাল দেন স্পেন্স।

৬৮ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে গোল বঞ্চিত করেন জর্ডান পিকফোর্ড। ডান পাশ থেকে লিওনেল মেসির ক্রসে দুর্দান্ত হেড করেন নিকো গঞ্জালেস। ডান দিকে নিচু হয়ে ঝাঁপিয়ে বল থামিয়ে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক।

৭৫ মিনিটে আবারও আর্জেন্টিনার দুর্দান্ত চেষ্টা ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। ডান পাশ থেকে রদ্রিগো ডে পলের দারুণ ক্রসে চমৎকার হেড দেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। ডান দিকে হাত বাড়িয়ে কোনোমতে বল প্রতিহত করেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক।

৮৫ মিনিটে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এনজো ফের্নান্দেজের দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকালেন জর্ডান পিকফোর্ড। পরে লিওনেল মেসির ছোট করে নেওয়া কর্নারে বল দেওয়া-নেওয়া করে দূরপাল্লার শট নেন এনজো। এবার আর ফেরাতে পারলেন না পিকফোর্ড। এনজোর গোলে সমতায় ফেরে আলবিসেলেস্তেরা।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয মিনিটে লিড পায় আর্জেন্টিনা। ডান পাশ থেকে মেসির ক্রসে সবার চেয়ে ওপরে লাফিয়ে উঠে হেডে বল জালে জড়ালেন বদলি নামা লৌতারো মার্টিনেজ। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। পরে লিড ধরে রেখে ফাইনাল নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।