, ৯ মার্চ – আসন্ন পাকিস্তান সিরিজে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রত্যাশা করছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে দল যে পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল সেখান থেকেই টাইগাররা এগিয়ে যেতে চান বলে তিনি জানিয়েছেন।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিমন্স জানান ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ যেভাবে খেলেছিল সেই পারফরম্যান্সই ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে। তিনি বলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে আমরা ভালো খেলেছিলাম এবং সেখান থেকে আমরা আর পিছিয়ে যেতে চাই না। তার মতে বর্তমানে উইকেট আগের তুলনায় অনেক ভালো এবং ক্রিকেটার হিসেবে তারা ভালো উইকেটে খেলতে চান যাতে নিজেদের দক্ষতা সঠিকভাবে যাচাই করা যায়।
দলের উন্নতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মিডল ওভারে। বাংলাদেশের কোচের মতে এই সময়টাতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বদলে যেতে পারে। সিমন্স জানান তাদের লক্ষ্য হচ্ছে আরও উন্নতি করা। বিশেষ করে মিডল ওভারে দল এখনও খুব ভালো করতে পারেনি। ব্যাটিংয়ের সময় ওই পর্যায়ে কত রান হচ্ছে এবং কত সিঙ্গেল ও বাউন্ডারি আসছে সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে বোলিংয়েও মিডল ওভারে আরও বেশি উইকেট নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
মিডল অর্ডারে ব্যাটিং প্রসঙ্গে তিনি জানান দলের ভারসাম্য বজায় রাখতেই কিছু ক্রিকেটারকে সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পঞ্চাশ ওভার উইকেটকিপিং করার পর ওপেনিং করা বেশ কঠিন। এছাড়া দলে এমন একজন ব্যাটসম্যান আছেন যিনি স্পিন খুব ভালো খেলেন। তাই তাকে মিডল অর্ডারে ব্যবহার করা হচ্ছে। মিডল অর্ডার দলের দুর্বল জায়গা ছিল তাই তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা সেখানে কাজে লাগবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিমন্স আরও বলেন ওই ব্যাটসম্যান এখন নিজের খেলায় অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ এবং দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে ব্যাট করতে প্রস্তুত। আসন্ন ম্যাচগুলোকে সামনে রেখে দলের লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি জানান শুধু বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কথা ভাবলে চলবে না বরং একদিনের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে ভালো দল হয়ে ওঠাই এখন প্রধান লক্ষ্য। তাদের কাজ হচ্ছে পয়েন্ট টেবিলে উপরের দিকে ওঠা।
শুধু স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়ার চিন্তা নয় বরং তারা চান ভালো ক্রিকেট খেলতে এবং ধীরে ধীরে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করতে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাম্প্রতিক কঠিন সময় নিয়েও কথা বলেন এই প্রধান কোচ। তার মতে সেই সময়টা খেলোয়াড়দের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে এখন দল ধীরে ধীরে সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠছে।
ঘরোয়া টুর্নামেন্টও এই উত্তরণে সাহায্য করেছে। এখন দল পুনরায় পঞ্চাশ ওভারের ক্রিকেটে পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছে। দলে নতুন ও অনভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। কোচ বলেন তারা শুধু ১৫ জনের দল নয় বরং বড় একটি খেলোয়াড়ের পুল তৈরি করতে চান। প্রায় ২০ থেকে ২৪ জন ক্রিকেটারকে অনুশীলনের মধ্যে রাখা হচ্ছে যাতে সুযোগ এলে তারা প্রস্তুত থাকেন।
২০২৭ সালের বিশ্বকাপ সামনে রেখে পেস বোলারদের বেশি সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান সিমন্স। আগামী বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে যেখানে দ্রুতগতির বোলারদের গুরুত্ব বেশি থাকবে। তাই এখন থেকে বেশিরভাগ সময় তিনজন পেসার নিয়ে খেলার পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
কখনো পরিস্থিতি অনুযায়ী তিনজন স্পিনার লাগতে পারে তবে এক পেসার দিয়ে ম্যাচ খেলার পরিকল্পনা আর থাকবে না। আসন্ন পাকিস্তান সিরিজটিকে তারা ২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির শুরু হিসেবে দেখছেন। প্রতিপক্ষ সহজে হার মানতে চাইবে না এবং উইকেটও ভালো হবে বিধায় একটি দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিরিজের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ দল।
এম ম/ ৯ মার্চ ২০২৬






