ঈদযাত্রায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বেড়ে গেল কেন

ঈদযাত্রায় ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ বেড়ে গেল কেন

তবে গত ১৪ মার্চ চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় দৈনিকের খবর অনুযায়ী, ১৩ দিনে ছয়বার কক্সবাজার-ঢাকা রেললাইনে পর্যটক ট্রেনে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পত্রিকাটি বলছে, ৪০টির বেশি পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। ৩ মার্চের হামলার ঘটনাকে ডাকাতির চেষ্টা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চলতি মাসে এসব হামলার ব্যাপারে যাত্রী বা রেলকর্তৃপক্ষের কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তাতে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০২২ সালের ৩ মার্চ প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০১৩ সালে ঈদের ছুটি শেষে চট্টগ্রাম থেকে ফেরার ট্রেনে ছিলেন প্রকৌশলী প্রীতি দাশ (২৪); বিয়ে হয়েছে মাত্র ১৭ মাস। ভাটিয়ারী এলাকায় চলন্ত ট্রেনে ছুড়ে মারা পাথরের আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালে খুলনার বেনাপোল রোডে কমিউটার ট্রেনে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরের আঘাতে ট্রেনের পরিদর্শক বায়েজিদ মারাত্মকভাবে আঘাত পান। ৪১ দিন পর মৃত্যু হয়।

সৈয়দপুরে দুর্বৃত্তদের ছোড়া পাথরে এক ছোট শিশুর চোখ নষ্ট হয়ে যায়। কেউ এর প্রতিকার পেয়েছেন বলে জানা নেই। নিরাপদ, আরামদায়ক রেলভ্রমণকে যারা ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কেউ নেই—তা তো নয়, আইন আছে। আইনের প্রয়োগকারী হয়তো ঘুমিয়ে আছেন। তবে আপনাদেরও ঘুম ভাঙতে পারে।

২০১৯ সালে জাতীয় সংসদের তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর বগিতেও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তিনি সৌভাগ্যক্রমে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন। সবার তো এমন সৌভাগ্য না–ও হতে পারে। তিনি ভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়েছিলেন, কিন্তু সবাই যে এমন সৌভাগ্য নিয়ে ফিরবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। নিরাপদ ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ট্রেনযাত্রাকে যারা দিন দিন অনিরাপদ করে তুলছে, তাদের ঘুম ভাঙানো জরুরি। নইলে সাধারণ যাত্রীদের ঈদ বা দৈনন্দিন যাত্রা কেবল আতঙ্কের অন্য নাম হয়েই টিকে থাকবে।

আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, প্রথম আলোর রাজশাহী প্রতিবেদক

*মতামত লেখকের নিজস্ব