এক সময় নেশার অন্ধকারেই ডুবে ছিলেন তিনি। আসক্তির ঘোরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথে পথে ঘুরেছেন, মানুষের কাছে হাত পেতেছেন নেশার টাকার জন্য। কিন্তু সেই জীবনই এক সময় মোড় নেয় অবিশ্বাস্যভাবে! অন্ধকার পেরিয়ে ফিরে আসেন সুস্থ জীবনে, বেছে নেন নতুন পথ— জীবনমুখী এক লড়াইয়ের পথ!
আজ সেই মানুষটিই অন্যদের জন্য আশার আলো। নিজেই গড়ে তুলেছেন মাদক নিরাময় কেন্দ্র ‘আমার হোম কেয়ার হাব’। কাজ করছেন মানুষকে সুস্থ জীবনে ফেরাতে। একইসঙ্গে শিল্পচর্চায় মনোনিবেশ করে তিনি যুক্ত হয়েছেন চলচ্চিত্রে। অভিনয় করেছেন ‘আদিম’ খ্যাত নির্মাতার নতুন ছবি ‘অতল’-এ, প্রধান চরিত্রে! যেখানে তিনি শুধু অভিনয়ই করেননি, চিত্রগ্রহণের দায়িত্বও সামলেছেন!
বলছি এক বদলে যাওয়া মানুষের প্রতীক হয়ে ওঠা নাঈম তুষারের কথা। ‘অতল’-এর সুবাধে আলোচনায় তিনি, কারণ এই সিনেমাটি নির্বাচিত হয়েছে মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ৪৮তম আসরে।
‘অ্যাপকিলপস্ নাউ’ বিভাগে নির্বাচিত ‘অতল’-এর প্রথম প্রদর্শনী রবিবার (১৯ এপ্রিল) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায়, সিনেমাটির দ্বিতীয় ও শেষ প্রদর্শনী ২২ এপ্রিল স্থানীয় সময় দুপুর পৌনে ৩টায়।
এই উৎসবে অংশ নিতে নির্মাতার সঙ্গে বর্তমানে রাশিয়ার মস্কো শহরে অবস্থান করছেন নাঈম তুষার।

অন্ধকার থেকে আলোর পথে নাঈম তুষারের এই অবিশ্বাস্য যাত্রার গল্প শুনেছে চ্যানেল আই অনলাইন। যেখানে তিনি কীভাবে নেশার পথ ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরে এলেন, সেই গল্পের পাশাপাশি উঠে এসেছে ‘অতল’ সিনেমায় তার যুক্ত হওয়ার গল্পও।
‘অতল’-এ যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে নাঈম তুষার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন,“আসলে অভিনয় কী জিনিস, এটা তো আমি জানি না। যুবরাজ ভাইয়ের সাথে একসময় প্রচুর ঘুরেছি, দুজনে বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছি। আমি তো অভিনয়শিল্পী নই, কিন্তু এই সিনেমার চাহিদায় ছিলো- আমি যেমন আছি, যে অবস্থার ভেতর দিয়ে তখন যাচ্ছিলাম- সেটাই ফুটিয়ে তোলা। যদি কিছুটা হয়ে থাকে, তবে সেজন্যই হয়েছে। যদি বলা হতো অভিনয় করতে, তাহলে সেটা আমি পারতাম না।”

চিত্রগ্রাহকের দায়িত্ব নিয়ে নাঈম তুষার বলেন,“আমি ফটোগ্রাফি করি অনেকদিন। ফটোগ্রাফির অভিজ্ঞতার কারণেই মূলত আমরা যা করতে চাইছি, আমার মনে হয়েছে এভাবে এভাবে করা যায়।” তিনি বলেন, “শুরুতে আমরা তো আসলে জানতাম ই না, সিনেমাটা কোন দিকে যাচ্ছে, কী হচ্ছে- আমরা শুধু আমাদের জার্নিটা ক্যামেরায় ধারণ করে যাচ্ছিলাম। তখন আসলে চিন্তা করিনি কিছু। শুধু শামীম ভাইয়ের সাথে যে জার্নিটাতে ছিলাম, আমি শুধু সেটা এনজয় করছিলাম। পরিকল্পনা করে কিছু করিনি।”
এসময় নিজের অতীত সময়ের কথা টেনে তুষার বলেন,“একটা সময় আমি বেঁচে থাকবো, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করবো- এটাইতো কখনো কল্পনাতে আসেনি, যখন আমি অ্যাডিকশনে ছিলাম। আমি রাস্তায় রাস্তায় ঘুরেছি, মানুষের কাছে হাত পেতেছি। এমন একটা অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে আমি যে জায়গায় যাচ্ছি, এটা কি আমার দ্বারা সম্ভব কিনা; সেটা বার বার চিন্তা করছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সৃষ্টিকর্তা আমাকে নতুন একটা জীবন দিয়েছে।”
নিজের অভিনীত কাজ নিয়ে মস্কো যাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না জানিয়ে তুষার বলেন,“যে মানুষটা জানে ৬ মাস পর সে মারা যাবে বা নেশা তাকে নাই করে দিচ্ছে। সে আজকে মস্কো যাচ্ছে, ফিল্ম ফেস্টিভালে যাচ্ছে, রেড কার্পেটে যাবে- এটা আসলে কল্পনার বাইরে ছিলো।”

‘অতল’ যুবরাজের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। যেখানে অস্তিত্ব সংকটে ভোগা একজন মানুষের মনস্তত্ব ভিজ্যুয়াল করেছেন নির্মাতা। এ প্রসঙ্গে যুবরাজ বলেন, “একজন মানুষ যার প্রায়ই মনে হয় সে মৃত্যু পরবর্তী জীবন পার করছেন কিংবা অন্যের অসমাপ্ত জীবন কাটাচ্ছেন। যেখানে সময়, তার চারপাশের চরিত্র সব থমকে আছে। সেটাই ‘অতল’-এ পোট্রে করার চেষ্টা করেছি।”
‘অতল’ যুবরাজ শামীমের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দরবার শরীফ প্রযোজিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি।
‘অতল’ নিয়ে যুবরাজ শামীম বলেন, ‘অতল’ মূলত আমাদের দুজনের জার্নি, আমরা দুজন একটা ক্যামেরা নিয়ে স্কুটিতে করে নানান জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি, যে জায়গাটার সঙ্গে আমরা কানেকশন অনুভব করেছি সেখানেই আমরা ক্যামেরা বসিয়েছি, তুষার ভাই ক্যামেরা ঠিকঠাক করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালে, আমি শুধু ক্যামেরা অন অফ করেছি।






