বুথে ভিড়, মাঠে সংঘর্ষ: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে দ্বৈত চিত্র | চ্যানেল আই অনলাইন

বুথে ভিড়, মাঠে সংঘর্ষ: পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে দ্বৈত চিত্র | চ্যানেল আই অনলাইন

বুথে ছিল ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, উৎসবমুখর উপস্থিতি অন্যদিকে বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে সংঘর্ষ, হামলা ও অভিযোগ। উচ্চ ভোটদানের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি সহিংসতার ঘটনাও ছাপ ফেলেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায়। ফলে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের উচ্ছ্বাস ও মাঠের উত্তেজনা দুই বিপরীত বাস্তবতায় শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ।

আজ ২৪ এপ্রিল শুক্রবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ডয়েচ ভেলে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটে নজিরবিহীন ভোটদানের হার রেকর্ড করেছে রাজ্যটি। ২৩ এপ্রিল ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে অনুষ্ঠিত ভোটে প্রায় ৯২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কোথাও কোথাও ভোটদানের হার ৯৬ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে বিরল বলে দাবি করা হচ্ছে।

রেকর্ড ভোটের ঝড়

ভারতের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কোচবিহারে সর্বোচ্চ ৯৬ দশমিক শুন্য ৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং জলপাইগুড়ি, মালদহ, বীরভূম ও উত্তর দিনাজপুরে ৯৪ শতাংশের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ভোটের হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম হলেও সেখানেও ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছে।

মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখের বেশি। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এই ভোটদানের হারকে স্বাধীনতার পর পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ বলে উল্লেখ করে রাজ্যবাসীকে অভিনন্দন জানান।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ২৪০০-এর বেশি কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রতিটি বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কড়া নিরাপত্তা বলবৎ ছিল। কুইক রেসপন্স টিম এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর দ্রুত পদক্ষেপে বহু জায়গায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানায় কমিশন।

ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অশান্তি, অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

তবে শান্তিপূর্ণ ভোটের দাবি থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠে এসেছে। মুর্শিদাবাদের নওদায় আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই এলাকায় দুই রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীর ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বীরভূমের লাভপুরে এক এজেন্টকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

মালদহ, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুরেও একাধিক বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনার খবর আসে। এছাড়া ভোটার তালিকা ও ইভিএম সংক্রান্ত অভিযোগ, বুথ জ্যাম, এজেন্টদের বাধা দেওয়ার ঘটনাও বিভিন্ন জায়গায় রিপোর্ট করা হয়। ভোট দিতে গিয়ে পূর্ব মেদিনীপুর, মালদহ, বীরভূমসহ চারটি জেলায় চারজন ভোটারের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। প্রচণ্ড গরম ও অসুস্থতাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ভোটকে তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটদানের এই উচ্চ হার একদিকে জনসাধারণের সক্রিয় অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দিলেও, অন্যদিকে এটি রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পরিবর্তনের ইঙ্গিতও বহন করছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংখ্যালঘু ও গ্রামীণ এলাকায় উচ্চ ভোটদানের হার নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফায় বাকি ১৪২টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফার অভিজ্ঞতা ও সহিংসতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দ্বিতীয় দফায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।