তবে আগে যেমনটা বলেছি, কাজটা অত্যন্ত কঠিন। প্রশ্ন হলো, কেন কঠিন? এর পেছনে বিজ্ঞানের বেশ কিছু কঠিন ও বড় ধরনের বাধা আছে। প্রথমত, সার্জারি বা অস্ত্রোপচারের জটিলতা। একটি অঙ্গ যখন প্রথমবার শরীর থেকে বের করা হয়, তখন এর সঙ্গে যুক্ত রক্তনালিগুলো কিছুটা কেটে ছোট করতে হয়। দ্বিতীয়বার বের করতে গেলে সেগুলো আরও ছোট হয়ে যায়। ফলে তৃতীয় মানুষের শরীরে ওই ছোট রক্তনালিগুলো নিখুঁতভাবে জোড়া দেওয়া চিকিৎসকদের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
দ্বিতীয়ত, শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। আমাদের শরীর বাইরের যেকোনো জিনিসকে সহজে মেনে নিতে চায় না, তাকে আক্রমণ করে বসে। একটি অঙ্গ যখন তিনজন ভিন্ন মানুষের শরীরে ঘোরে, তখন তাকে তিনটি আলাদা ইমিউন সিস্টেমের সঙ্গে লড়াই করতে হয়। ফলে তৃতীয় ব্যক্তির শরীর অঙ্গটিকে প্রত্যাখ্যান করার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।
তৃতীয়ত, সময়ের অভাব। একে বলা হয় ইশকেমিয়া টাইম। শরীরের বাইরে রক্ত চলাচল ছাড়া একটি অঙ্গ খুব বেশিক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে না। অঙ্গটিকে বরফের বাক্সে ভরে এক অপারেশন থিয়েটার থেকে আরেকটিতে নিতে হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে শেষ করতে হয়। একটু দেরি হলেই অঙ্গটির টিস্যু মরে যায়।
অঙ্গ প্রতিস্থাপন এমনিতেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিশাল অর্জন। তার ওপর একই অঙ্গ দুবার প্রতিস্থাপন করাটা যেন কল্পবিজ্ঞানের গল্পকেও হার মানায়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এভাবেই প্রতিনিয়ত অসাধ্য সাধন করে চলেছে এবং মানুষকে নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাচ্ছে!
সূত্র: আমেরিকান জার্নাল অব ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন, বিবিসি সায়েন্স ফোকাস ও ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ




