অভিনেত্রী প্রিয়াম অর্চি অভিনীত দুটি চলচ্চিত্র ‘নির্বাণ’ এবং ‘দ্য আনএক্সপেক্টেড’ লন্ডনের দুটি চলচ্চিত্র উৎসবে সম্প্রতি এবং আসন্ন সময়ে প্রদর্শিত হচ্ছে।
মস্কো এবং ইউরোএশিয়া চলচ্চিত্র উৎসবে জুরি পুরস্কারপ্রাপ্ত ‘নির্বাণ’ বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ২৩ এপ্রিল লন্ডন প্রিমিয়ারের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়েছে। সেন্ট্রাল লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির ব্লক সিনেমা হলে আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াম অর্চি ও দর্শকরা।
অন্যদিকে, লন্ডনে নির্মিত দ্য আনএক্সপেক্টেড চলচ্চিত্রটি, যা গত বছর শিকাগো সাউথ এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ইউএস প্রিমিয়ার পেয়েছিল। এবছর ৩ মে ইউকে এশিয়ান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এর ইউকে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে প্রিয়াম অর্চি অভিনীত, স্বাধীন ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মাণে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাত নির্মাতা কিউ পরিচালিত দেশলাই চলচ্চিত্রটিও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
গত বছর সিয়াটলে অনুষ্ঠিত তাসভীর ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ারে প্রিয়াম অর্চি নিজে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে চলচ্চিত্রটির ডিজিটাল স্বত্ব বাংলাদেশে চরকির কাছে রয়েছে এবং শিগগিরই কলকাতা ও যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তির পরিকল্পনা চলছে।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন প্রিয়াম অর্চি। সেখান থেকে সাম্প্রতিক কাজ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দেশের বাইরে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
গত কয়েক বছরে তিনি ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কাজের মাধ্যমে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন প্রিয়াম অর্চি। টেলিভিশন, ওয়েব কনটেন্ট এবং চলচ্চিত্র—বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করলেও তিনি কাজের সংখ্যার চেয়ে বেছে নেওয়া কাজের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেন।
এসব কাজ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং দর্শক ও সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এ প্রসঙ্গে প্রিয়াম অর্চি বলেন, আমি ব্যস্ত থাকতে চাই না, আমি প্রাসঙ্গিক থাকতে চাই। প্রতিটি কাজ আমার জন্য একটি দীর্ঘ যাত্রার অংশ, যেখানে আমি সময় নিয়ে চরিত্র ও গল্পের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করি।
প্রিয়ামের চিন্তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে স্বাধীন ও বিকল্পধারার সিনেমার ভবিষ্যৎ। তার ভাষায়, বিশ্ববাজারে স্বাধীন সিনেমার দর্শক তৈরি হয় পরিকল্পিতভাবে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেই কাঠামো এখনো দুর্বল।
তিনি মনে করেন, এই ঘরানার দর্শকদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘হাব’ বা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা জরুরি, যেখানে দর্শক সহজেই তথ্য ও সিনেমার সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন। না হলে এই ধারার সিনেমা নির্মাণে তরুণ নির্মাতাদের আগ্রহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন, ইংল্যান্ডের শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা যেকোনো মানুষকেই গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে; পাশাপাশি তুলনামূলক সমান সুযোগের একটি পরিবেশ শিল্পচর্চা ও মুক্ত চিন্তার জন্য অনুকূল।
অভিনেত্রী হিসেবে তিনি এখন সচেতনভাবে সিনেমা দেখার অভ্যাস গড়ে তুলছেন। শুধু দেখা নয়, বরং চলচ্চিত্র দেখার পর তা নিয়ে ভাবা, বিশ্লেষণ করা এই প্রক্রিয়াটিকেও তিনি নিজের চর্চার অংশ করে তুলছেন।
এছাড়া প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে তার জন্য শেখার নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি একটি এক্সপেরিমেন্টাল স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত হয়েছেন। গত বছর ঢাকায় চলচ্চিত্রটির শুটিং সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশনের পর্যায়ে রয়েছে।
গতকাল লন্ডন-বেঙ্গলী ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যালে ‘নিবার্ণ’ এর স্ক্রিনিং প্রসঙ্গে প্রিয়াম অর্চি বলেন, “স্ক্রিনিংটা ভালোই হয়েছে। দর্শকসংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল, ফেস্টিভ্যালটি এখনো নতুন, তবে প্রদর্শনী শেষে দু’একটি অর্থবহ প্রশ্ন পেয়েছি, যা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, এই ধরনের বুটিক বা উদীয়মান ফেস্টিভ্যালগুলোকে উপস্থিত থেকে নিজের কাজের মাধ্যমে সাপোর্ট করা জরুরি।”







