বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতায় গুরুত্ব | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশ-পাকিস্তান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক: নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা সহযোগিতায় গুরুত্ব | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশ সফররত পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (ইন্টেরিয়র মিনিস্টার) সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, মানবপাচার, সাইবার অপরাধ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকে দুই দেশের মন্ত্রী আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিন্ন স্বার্থের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং বিচারিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত পোষণ করেন তাঁরা।

মানবপাচার (টিআইপি) ও অভিবাসীদের অবৈধ চোরাচালান (এসওএম) প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং পাচারকারী চক্র দমনে যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে দ্রুত তথ্য ও সাক্ষ্য বিনিময়ের জন্য ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ (এমএলএআর) চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ ছাড়া আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক অপরাধ দমনে কার্যকর প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে আধুনিক পুলিশিং ও অপরাধ তদন্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ ও সংগঠিত অপরাধ দমনে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন দুই মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর আহ্বান জানান। এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গঠনমূলক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, চোরাচালান ও দলিল জালিয়াতি প্রতিরোধে পাকিস্তানের দেওয়া একটি খসড়া চুক্তির বিষয়ও উঠে আসে। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে খসড়াটি পর্যালোচনা করছে বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে তিন পাকিস্তানি বন্দির মুক্তি–সংক্রান্ত নথির বর্তমান অবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করে।