প্রতিহিংসার বলি ৮ বছরের শিশু! নিখোঁজের পর প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে মিলল মাদরাসাছাত্রের নিথর দেহ – DesheBideshe

প্রতিহিংসার বলি ৮ বছরের শিশু! নিখোঁজের পর প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে মিলল মাদরাসাছাত্রের নিথর দেহ – DesheBideshe


প্রতিহিংসার বলি ৮ বছরের শিশু! নিখোঁজের পর প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে মিলল মাদরাসাছাত্রের নিথর দেহ – DesheBideshe

ময়মনসিংহ, ৯ মে – ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় নিখোঁজের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় এক মাদরাসাছাত্রের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ শিশু আন্দালিব রহমান রাফিকে (৮) হত্যার পর মরদেহ গুম করতে প্রতিবেশীর বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। শনিবার (৯ মে) দুপুরে উপজেলার জমিনপুর গ্রাম থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত রাফি জমিনপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুর থেকে রাফিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে ওই দিন বিকেলেই তার বাবা মুক্তাগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ দ্রুত স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে প্রতিবেশী খোকন মিয়ার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাকে আটক করে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মুখে খোকন স্বীকারোক্তি প্রদান করেন এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শনিবার দুপুরে তার বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে রাফির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ পুরনো শত্রুতা। মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, প্রায় এক মাস আগে রাফির বাবা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিবেশী খোকন মিয়ার কোনো একটি বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই রাগের বশবর্তী হয়েই নিষ্পাপ শিশু রাফিকে টার্গেট করেন খোকন।

এক মাস আগের সেই বিরোধটি কতটা গুরুতর ছিল এবং এর সাথে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

শিশুটিকে যেভাবে অপহরণ করে হত্যা ও মরদেহ গুম করার চেষ্টা হয়েছে, তাতে এটি একটি সুপরিকল্পিত অপরাধ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আটক খোকন মিয়াকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে যাতে এই নৃশংস ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র ফুটে ওঠে।

আট বছরের এক কোমলমতি শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে গোটা জমিনপুর গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত খোকন মিয়ার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। তারা বলছেন, সাধারণ প্রতিবেশী কোন্দলে একটি শিশুর জীবন কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

পুলিশ জানায়, আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও আঘাতের ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এনএন/ ৯ মে ২০২৬