দেশের সমুদ্রসীমা, সামুদ্রিক সম্পদ ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণেও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। জাটকা নিধন প্রতিরোধ এবং বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ বন্ধ কার্যক্রম বাস্তবায়নে নৌবাহিনী বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় অভিযান পরিচালনা করছে।
রোববার ১০ মে নৌবাহিনী জানায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ‘জাটকা নিধন প্রতিরোধ কার্যক্রম-২০২৬’ এবং ১৫ এপ্রিল থেকে ‘বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিন সকল প্রকার মৎস্য আহরণ বন্ধ কার্যক্রম’ পরিচালিত হচ্ছে।
জাটকা নিধন প্রতিরোধ অভিযানের আওতায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, চাঁদপুর, খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও বরগুনাসহ মোট ৯ জেলায় সমন্বিত অভিযান চলছে। বরিশাল এলাকায় এ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে বানৌজা তিতাস। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় নৌবাহিনীর একাধিক জাহাজ ও ঘাঁটি মোতায়েন রয়েছে। অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে জাটকা আহরণ এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, মশারি জাল, চায়না দুয়ারি জাল, সুতা জাল ও বাঁধা জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার প্রতিরোধ করা হচ্ছে। আটক করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস্য কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হচ্ছে। একইসঙ্গে জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে সচেতন করা হচ্ছে।
নৌবাহিনীর তথ্যমতে, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫১৪ কোটি ৬৮ লাখ ৯৩ হাজার ২১০ টাকা মূল্যের ৩ কোটি ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৭০৫ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া বেহুন্দি, টং জাল ও চায়না রিংসহ ৮৬১টি নিষিদ্ধ জাল, ৩৭ কেজি জাটকা এবং একটি বোট জব্দ করা হয়েছে। এ অভিযান আগামী ১৫ মে পর্যন্ত চলবে। অন্যদিকে, বঙ্গোপসাগরে ৫৮ দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ মোতায়েন রয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ ও ক্রাফট নিয়মিত টহলের পাশাপাশি মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে নিষিদ্ধ সময়ে দেশি বা বিদেশি কোনো নৌযান মাছ ধরতে না পারে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, ১৪ এপ্রিলের মধ্যেই সমুদ্রে মাছ ধরায় নিয়োজিত সব ট্রলার ও ফিশিং বোটকে উপকূলে ফিরে আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। এরপরও গভীর সমুদ্রে অবৈধ মৎস্য শিকার ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে নৌবাহিনী। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ২৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ২৩ হাজার ৫০০ মিটার অবৈধ জাল এবং ৪১টি নিষিদ্ধ জাল আটক করা হয়েছে। সরকার ঘোষিত ৫৮ দিনের এ কার্যক্রম আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে।
এছাড়া ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় গত ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের ১৬টি উপকূলীয় জেলায় ‘বিশেষ কম্বিং অপারেশন-২০২৬’ পরিচালনা করে নৌবাহিনী। ওই অভিযানে প্রায় ১৫৮ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ১৬০ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়। পাশাপাশি ২ হাজার ৩৫৭টি নিষিদ্ধ জাল, পাঁচটি বোট এবং ৯০৩ কেজি জাটকা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ এবং জব্দ বোট স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী। তাদের দাবি, এসব অভিযান দেশের মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।






